বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৫

ফেসবুকে ফোন নম্বর লুকিয়ে রাখুন

বাড়তি নিরাপত্তার জন্য ফেসবুক কর্তৃপক্ষ ব্যবহারকারীদের অ্যাকাউন্টে ফোন নম্বর যোগ করতে বরাবরই উৎসাহ দিয়ে আসছে। নতুন ফেসবুক অ্যাকাউন্ট খোলা বা দ্বিগুণ নিরাপত্তার খাতিরে নিজের ফোন নম্বর ব্যবহার করলেও কিছু ক্ষেত্রে হিতে বিপরীত হতে পারে। কেউ যদি ফেসবুক অ্যাকাউন্টে নিজের ফোন নম্বর দিয়ে থাকেন এবং প্রয়োজনীয় সেটিংস পরিবর্তন না করেন, তাহলে তাঁর ব্যক্তিগত তথ্য যে কেউ দেখার সম্ভাবনা রয়েছে। এমনকি এটি কার ফোন নম্বর, সেটি জানা না থাকলেও হবে, শুধু নম্বরটি দিয়ে ফেসবুকসহ গুগলের মতো সার্চ ইঞ্জিনে অনুসন্ধান চালালে ফলাফল হিসেবে নিজের অনেক তথ্যই প্রকাশিত হয়ে যেতে পারে। এ জন্য ব্যক্তিগত ফেসবুক অ্যাকাউন্টে নিরাপত্তার স্বার্থে ফোন নম্বর ব্যবহার করলেও একই সঙ্গে দ্রুত সেটা লুকিয়ে রাখার ব্যবস্থা করা উচিত।
বাংলাদেশে অনেকেই ভিন্ন ভিন্ন মোবাইল অপারেটরের দুটি সিম ব্যবহার করে থাকেন। সবচেয়ে ভালো হয় কম পরিচিত বা নতুন কোনো নম্বর, যেটা সাধারণত কম ব্যবহার করা হয়, সেটাই নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে ব্যবহার করা। কোনোভাবে সিম ক্লোন হলে বা কেউ জালিয়াতির আশ্রয় নিয়ে সিম উঠিয়ে ফেললে, ফেসবুকসহ অন্যান্য অ্যাকাউন্ট হ্যাক করা একেবারেই সহজ। এ জন্য কোনো রকম হ্যাকিং জানারও প্রয়োজন পড়বে না। ফেসবুকে যখন নতুন অ্যাকাউন্ট খোলা হয় বা ফোন থেকে যখন কোনো ছবি বা ভিডিও আপলোড করা হয়, তাহলে ফেসবুক নিজের ফোন নম্বর যোগ করতে বলে। আবার দুই স্তরের নিরাপত্তা চালু করলেও ফোন নম্বর দিতে হয়। নিজের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা বা প্রাইভেসি সেটিংস পরিবর্তন না করলে, যে কেউ ফোন নম্বর লিখে অনুসন্ধান চালালে কিছু তথ্য এমনিতেই পাওয়া যায়, যেমন নিজের প্রোফাইলের ছবি, নাম, পেশা ও অবস্থান ইত্যাদি।
ফেসবুকে নিজের ফোন নম্বর লুকিয়ে রাখতে চাইলে অ্যাকাউন্টে প্রবেশ করে ওপরে নীল বারের ডান পাশে থাকা নিচের দিকে তির চিহ্নিত আইকনে ক্লিক করুন। সেখান থেকে সেটিংস অপশনে ক্লিক করলে জেনারেল সেটিংস অপশন আসবে। এবার বাঁয়ের মেনু থেকে প্রাইভেসি অপশনে ক্লিক করার পর ডানের Who can look me up? অংশ থেকে Who can look you up using the phone number you provided? অপশনটিতে ক্লিক করুন বা ডানের এডিট লিংকে ক্লিক করুন। নিচের ড্রপ ডাউন মেনু থেকে ফ্রেন্ডস বা প্রয়োজনীয় অপশনটি নির্বাচন করে দিন। এর নিচেই আরেকটি প্রাইভেসি অপশন রয়েছে। আপনার ফেসবুক প্রোফাইলটি অন্যান্য সার্চ ইঞ্জিনে যুক্ত হবে কি না, সেটা জানতে চাওয়া হবে। এখনেও এডিট লিংকে ক্লিক করে Let other search engines link to your timeline অপশন থেকে টিক চিহ্নটি উঠিয়ে দিন। নিজের ই-মেইল ঠিকানা ব্যবহার করে কেউ খুঁজতে চাইলে সেটাও পরিবর্তন করে দেওয়া যাবে একইভাবে।

বজরঙ্গির ‘বন্ধু’ চান্দ নবাব লাঞ্ছিত!

ঈদুল ফিতরে মুক্তি পাওয়া বলিউডের ছবি ‘বজরঙ্গি ভাইজান’ নিয়ে আলোচনা এখনো থামেনি। নানা কারণেই খবরের শিরোনামে উঠে আসছে ‘বজরঙ্গি ভাইজান’ এবং এ ছবির চরিত্রগুলো। সম্প্রতি ছবিতে ‘বজরঙ্গি ভাইজান’-এর সাংবাদিক বন্ধু ‘চান্দ নবাব’ (যিনি বাস্তবেও একজন পাকিস্তানি সাংবাদিক) মার খেয়েছেন সে দেশের পুলিশের হাতে।
ঈদের আগে পাকিস্তানে রেল টিকিটের কালোবাজারি নিয়ে প্রতিবেদন করতে গেলে রেল কর্তৃপক্ষ ও পুলিশের হাতে লাঞ্ছিত হন পাকিস্তানের এই সাংবাদিক। ‘বজরঙ্গি ভাইজান’ ছবির ‘চান্দ নবাব’ চরিত্রটি ছবি মুক্তির আগে থেকেই বেশ আলোচিত হয়ে ওঠে বলিউডের ভক্ত-দর্শকদের মধ্যে।
পর্দায় ‘চান্দ নবাব’ চরিত্রে অভিনয় করেছেন নওয়াজউদ্দিন সিদ্দিকি। নওয়াজউদ্দিনের এই চরিত্রটি পাকিস্তানের ‘নাইনটি টু নিউজ চ্যানেল’-এর জেলা প্রতিনিধি চান্দ নবাবের বাস্তব জীবন থেকে অনুপ্রাণিত। চান্দ নবাবের বেশ কয়েকটি সংবাদ প্রতিবেদন ইউটিউবেও বেশ সাড়া ফেলেছিল। এর পরপরই চান্দ নবাব নজরে পড়েন ‘বজরঙ্গি ভাইজান’ ছবির পরিচালক কবির খানের।পাকিস্তানি সাংবাদিক চান্দ নবাবকে লাঞ্ছিত করার দৃশ্য
একটি পাকিস্তানি টিভি চ্যানেলের খবরে জানানো হয়েছে, ঈদুল আজহা সামনে রেখে একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন তৈরি করতে করাচি রেলওয়ে স্টেশনে যান সাংবাদিক চান্দ নবাব। আর সে সময়েই রেল টিকিট কালোবাজারির ভিডিওচিত্র ধারণ করার কারণে রেল কর্তৃপক্ষের রোষের শিকার হন তিনি। চান্দ নবাবকে লাঞ্ছিত করার মুহূর্তটি মোবাইল ফোনে ধারণ করেন এক প্রত্যক্ষদর্শী। পরে তা টুইটারে প্রকাশিত হলে শুরু হয় পাকিস্তানি পুলিশ ও রেল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ।
এদিকে, চান্দ নবাব যে টিভি চ্যানেলটিতে কাজ করেন সেই টিভি চ্যানেলটি জানিয়েছে, চান্দকে লাঞ্ছিত করার ভিডিওচিত্রটি নাকি পাকিস্তান সরকারেরও নজরে পড়েছে। টাইমস অব ইন্ডিয়া।

অক্ষয়ের দুঃখ!

‘হেরা ফেরি’, ‘ওয়েলকাম’, ‘সিং ইজ কিং’ এর মতো জনপ্রিয় কমেডি চলচ্চিত্র যার ঝুলিতে। যে অভিনেতা কমেডি ছবিতে বরাবরই দর্শক মাত করেছেন বলিউডের সেই অভিনেতা অক্ষয় কুমারই কিনা বলছেন কৌতুক অভিনেতারা চলচ্চিত্রে তাঁদের প্রাপ্য পান না! সম্প্রতি এক সাক্ষাৎ​কারে এ অভিনেতা এমনটিই জানিয়েছেন।
অক্ষয় কুমার জানিয়েছেন, মজার চরিত্রে অভিনয় করতে তিনি খুব ভালোবাসেন। তিনি মনে করেন, পর্দায় এমন চরিত্র ফুটিয়ে তোলা বেশ কঠিন ব্যাপার, কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক বিষয় এই যে— প্রেম বা বিরহের ছবিতে অভিনয় না করা পর্যন্ত মিডিয়াতে পরিচিতি পাওয়া যায় না।
‘চরিত্রের প্রয়োজনে লোক হাসালে মানুষ তাকে ‘ভাঁড়ামি’ হিসেবেই গণ্য করে, এটি খুবই ‘দুঃখজনক’ সাক্ষাৎ​কারে এমনটিই বলেছেন এই ‘খিলাড়ি’ অভিনেতা।
একসময় জনপ্রিয়তার তুঙ্গে থাকা নায়ক অমিতাভ বচ্চনও বলিউডের অনেক ছবিতেই কমেডি চরিত্রে অভিনয় করেছেন। কিশোর কুমারের মতো প্রতিভাবানও কৌতুক অভিনেতা হিসেবে দারুণ জনপ্রিয় ছিলেন। অক্ষয় কুমারও তাঁদের পদাঙ্ক অনুসরণ করছেন বলেই জানিয়েছেন।
ইদানীং টিভি ও চলচ্চিত্রে কৌতুক অভিনেতাদের অনেক কাজ পেতে দেখে বেজায় খুশি অক্ষয়। বিজ্ঞাপনেও আজকাল কমেডি নিয়ে কাজ হচ্ছে বলে আনন্দিত তিনি। মিড-ডে।

ভুয়া ফেসবুক পোস্টে চটেছেন সালমান!

ভুয়া অ্যাকাউন্টের আপত্তিকর পোস্টের কারণে প্রায়ই বিব্রত হতে হয় বলিউডের তারকাদের। সম্প্রতি বলিউডের তারকা অভিনেতা সালমান খান তাঁর নামের একটি ভুয়া ফেসবুক অ্যাকাউন্টের এক পোস্টের কারণে রীতিমতো ক্ষেপে গেছেন। ‘মাথা গরম’ লোক হিসেবে আগে থেকেই যথেষ্ট পরিচিতি আছে তাঁর, আর এবারের ঘটনাটি মাথা গরম হওয়ার মতোই বটে!
বলিউডের বেশির ভাগ তারকাই এখন নিজস্ব ফেসবুক ও টুইটারের অ্যাকাউন্ট থেকে ভক্তদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখেন। তবে বিপত্তিটা হচ্ছে— একজন তারকার নামে যেখানে কেবল একটিই অ্যাকাউন্ট থাকার কথা; সেখানে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমগুলোতে একই নামে একাধিক অ্যাকাউন্ট তৈরি হয়ে আছে। বলাই বাহুল্য, এর বেশির ভাগই ‘ফেইক’ বা ভুয়া।
সম্প্রতি কেউ একজন ‘সালমান খান’ নামে একটি নকল ফেসবুক পেজ খুলে তাতে পোস্ট করেছেন— ‘নতুন একটি ছবিতে অভিনয় করছেন সালমান’। এই পোস্টটি নজরে আসার পর সালমান খান তাঁর নিজস্ব টুইটারে টুইট করেছেন— ‘ফেসবুকের একটি ফেইক অ্যাকাউন্ট থেকে দাবি করা হয়েছে যে, নতুন একটি ছবিতে আমি অভিনয় করতে যাচ্ছি। নকল এবং গুজব হতে সাবধান। আমি বা আমার ম্যানেজার কেউই কোনো নতুন প্রকল্পে কাজ করার কথা বলিনি।’
আরেক টুইটে সালমান লিখেছেন, ‘কিছু মানুষ আমার সঙ্গে এসে ছবি তোলে এবং পরে তার অপব্যবহার করে। এটা একদম ঠিক নয়।’
তাঁর ভক্তদের এসব ভুয়া অ্যাকাউন্টের বক্তব্য দেখে বিভ্রান্ত না হওয়ার জন্য​ও অনুরোধ করেছেন সালমান। বর্তমানে রিয়েলিটি শো ‘বিগ বস’-এর (সিজন-৯‍) উপস্থাপনা করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন সালমান। ১১ অক্টোবর থেকে এটি প্রচারিত হবে। আর সালমানের ছবির ভক্ত-দর্শকেরা ‘প্রেম রতন ধ্যান পায়ো’ ছবিতে তাঁদের প্রিয় এ অভিনেতাকে দেখতে পাবেন। চলতি বছরের নভেম্বরে মুক্তি পাওয়ার কথা আছে ‘প্রেম রতন ধ্যান পায়ো’ ছবিটির।

সন্তানেরাই শাহরুখের ভালোবাসার গুরু

     
শাহরুখ খানরোমান্স দিয়েই বলিউড জয় করেছেন শাহরুখ খান। কিন্তু তিনি অবলীলায় স্বীকার করলেন ‘সত্যিকার ভালোবাসা’র অর্থ তিনি জেনেছেন সন্তানদের কাছ থেকে।
সন্তানদের কারণেই শাহরুখ উপলব্ধি করেছেন, ‘সত্যিকার ভালোবাসা’র মানে বদ্ধ করে রাখা নয়, নিজের মতো বেড়ে ওঠার সুযোগ করে দেওয়া।
শাহরুখ আর গৌরির বিয়ে হয়েছে ১৯৯১ সালে। আরিয়ান, সুহানা আর আব্রাম তাঁদের সন্তান। শাহরুখ তাঁর টুইটবার্তায় বলেছেন, নিজের মতো বেড়ে ওঠার সুযোগ করে দিলে সন্তানেরা সুখী হয়, এম​নকি আমি কাছে না থাকলেও। আর একেই বলে সত্যিকার ভালোবাসা।
শাহরুখ খানকে বলিউডের বাদশা নামে ডাকা হয়। তিনি সবসময়ই তাঁর পারিবারিক জীবনের কথা ও ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিয়মিত শেয়ার করে থাকেন। বর্তমানে শাহরুখ রোহিত শেঠির ‘দিলওয়ালে’ ছবির শুটিং নিয়ে ব্যস্ত। এ ছবিতে তাঁর সঙ্গে কাজ করছেন কাজল। 

৯ মিনিটে ৫ গোল!

ডাগ আউটেই বসেছিলেন। পেশির চোটের কারণে উলফসবার্গের বিপক্ষে বায়ার্নের প্রথম একাদশে ছিলেন না রবার্ট লেভোনডোফস্কি। কিন্তু দলের বিপর্যয়কর পরিস্থিতিতে মাঠে নেমে কী জাদুই না দেখালেন পোল্যান্ড জাতীয় দলের এই অধিনায়ক। মাত্র নয় মিনিটের মধ্যে ৫ গোল করে গড়লেন নতুন এক ইতিহাস। ১-০ গোলে পিছিয়ে থাকায় বায়ার্ন মিউনিখ বুন্দেসলিগায় উলফসবার্গের বিপক্ষে পেল ৫-১ গোলের দারুণ তৃপ্তির এক জয়।
হ্যাটট্রিকটি তিনি পূরণ করেছেন মাত্র ৩ মিনিটের ব্যবধানে। তাঁর প্রথম গোলটি আসে ৫১ মিনিটে। পরের মিনিটেই (৫২) তিনি পেয়ে যান তাঁর দ্বিতীয় গোল। জোড়া গোলের আনন্দের রেশ কাটতে না কাটতেই ৫৫ মিনিটে লেভোনডোফস্কি পেয়ে যান তাঁর হ্যাটট্রিকটি। এইটুকু কীর্তিই যেখানে যথেষ্ট হতে পারত, সেখানে এই পোলিশ স্ট্রাইকার এগিয়ে গেলেন আরও বড় কীর্তির দিকেই। ৫৭ মিনিটে করলেন তাঁর চতুর্থ গোলটি। আর পঞ্চম গোল করে গোটা আলিয়াঞ্জ অ্যারেনাকে বিহ্বল করে দেন তিনি ম্যাচের ৬০ মিনিটে। বায়ার্ন মিউনিখের ইতিহাসে প্রথম বদলি খেলোয়াড় হিসেবে লেভোনডোফস্কি গড়লেন এক ম্যাচে পাঁচ গোলের অনন্য এই কীর্তিগাথা।

সর্বকালের রেকর্ডটা অবশ্য অল্পের জন্য অধরাই থেকে গেছে লেভোনডোফস্কির। আর একটি গোল করলেই (ছয়টি) তিনি ছুঁয়ে ফেলতেন কোলন স্ট্রাইকার ডিয়েটার মুলারের ১৯৭৭ সালের গড়া রেকর্ডটি। আজ থেকে ৩৮ বছর আগে ভ্রেদার ব্রেমেনের বিপক্ষে কোলনের ৭-২ গোলে জেতা ম্যাচে মুলার একাই করেছিলেন ৬ গোল।

লেভোনডোফস্কির এমন কীর্তি তো এটাই প্রথম নয়! ২০১৩ সালের চ্যাম্পিয়নস লিগের সেমিফাইনালে বরুসিয়া ডর্টমুন্ডের হয়ে রিয়াল মাদ্রিদের বিপক্ষে এই লেভোনডোফস্কিই করেছিলেন চার-চারটি গোল। তাঁর সেই কীর্তি চ্যাম্পিয়নস লিগের ইতিহাসেরই অন্যতম সেরা হিসেবে চিহ্নিত হয়ে আছে।

নয় মিনিটে পাঁচ গোলের এই কীর্তি যেন নিজেরই বিশ্বাস হচ্ছে না লেভোনডোফস্কির। ম্যাচে শেষে সংবাদমাধ্যমকে তিনি কী বলবেন সেটাই ভেবে পাচ্ছিলেন না। কোনো মতে নিজেকে সামলে নিয়ে এই অনন্য অর্জনে নিজের উচ্ছ্বাসটাই কেবল প্রকাশ করলেন, ‘ব্যাপারটা অচিন্তনীয়। কোনো দিন ভাবিনি যে এমন কিছু করতে পারব। অবিশ্বাস্য এক কাণ্ড ঘটালাম আমি। তবে আমি খুশি। আমি সন্তুষ্ট। সবচেয়ে বড় কথা আমার এই অর্জন দলকে এনে দিয়েছে দুর্দান্ত এক জয়।

ম্যাচে শেষে ঘোরের মধ্যে ছিলেন বায়ার্ন কোচ পেপ গার্দিওলাও। তিনি আসলেই বিশ্বাস করতে পারছিলেন না চোখের সামনে কিছুক্ষণ আগে তিনি যা দেখেছেন তা সত্যি কি না, ‘আমার চোখের সামনে এমন কিছু ঘটবে, সেটার জন্য প্রস্তুত ছিলাম না আমি। আমার কোচিং জীবনে এমন অনন্য ঘটনার মুখোমুখি আমি আগে কখনো হইনি। উফ্‌! নয় মিনিটে পাঁচ গোল!! তবে রবার্ট (লেভোনডোফস্কি) কিন্তু আমার দৃষ্টিতে এই দুনিয়ারই অন্যতম সেরা স্ট্রাইকার।

লেভোনডোফস্কি মাত্র ৩ মিনিটের ব্যবধানে হ্যাটট্রিক করে ভেঙে দিয়েছেন ডুয়েসবার্গের মিচেল টোয়েন্নিয়েসের রেকর্ড। ১৯৯১ সালে এই টোয়েন্নিয়েস বুন্দেসলিগার এক ম্যাচে হ্যাটট্রিক করেছিলেন ছয় মিনিটের ব্যবধানে।
লেভোনডোফস্কির এই কীর্তির দিন তাঁকে অভিনন্দিত করতে ভোলেননি টোয়েন্নিয়েস নিজে, ‘রবার্ট এই রেকর্ড নিজের করে নিয়েছে, সে জন্য ওকে অভিনন্দন। আমি ২৪ বছর ধরে রেকর্ডটি দখলে রেখেছিলাম। সেই দখল হারিয়ে খারাপ যে লাগছে না সেটা বলব না। তবে আমার তৃপ্তি আমি রবার্টের মতো একজন দারুণ স্ট্রাইকারের কাছে হার মানলাম। সে যা করেছে, তা সত্যিই অবিশ্বাস্য।’ সূত্র: রয়টার্স।

প্রচ্ছদ বিনোদন আলাপন কোনো আপস করছি না: মাহিয়া মাহি

বড় পর্দার অভিনেত্রী মাহিয়া মাহিকে সাধারণত ছোট পর্দায় দেখা যায় না। তবে এবারের ঈদে ছোট পর্দার দু-একটি অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছেন তিনি। ঈদের অনুষ্ঠান, ঈদের দিনের পরিকল্পনা, ছবি, পারিশ্রমিক এসব নিয়েই প্রথম আলোর সঙ্গে কথা বলেছেন এ অভিনেত্রী। মাহি জানিয়েছেন, অনেক ছবিরই প্রস্তাব পেয়েছেন তিনি, তবে বেশির ছবির গল্পই ভালো লাগেনি। ছবির গল্প আর সঠিক পারিশ্রমিক নিয়েও কোনো আপস করছেন না তিনি। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন শফিক আল মামুন
মাহিয়া মাহি। ছবি :প্রথম আলোঈদের দিন কী করবেন বলে স্থির করে রেখেছেন?
এবার তো কোরবানির ঈদ। গরু কোরবানি দিচ্ছি। ঈদের দিন কোরবানির মাংস বাসায় আসার পর গরুর ‘কালা ভুনা’ রান্না করব। এই একটি মাত্র রান্নাই করতে পারি। এবং তা ভালো করেই পারি। এর আগে যারা আমার রান্না ‘কালা ভুনা’ খেয়েছেন তাঁরা সবাই প্রশংসা করেছেন। সন্ধ্যার পর পরিবারের সবাই মিলে আত্মীয়স্বজনের বাড়িতে বেড়াতে যাব। কাছের বন্ধুরা সবাই ঢাকার বাইরে ঈদ করবে। তাই বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডাটা এবার হচ্ছে না।
ঈদে কোনো ছবি দেখবেন না?
আমি প্রতিবার ঈদের পরদিন থেকে সিনেমা দেখি। এবারও তাই-ই করব। ঈদের দ্বিতীয়দিন ‘আশিকী’ ছবিটি দেখব। পর্যায়ক্রমে ঈদের সব ছবিগুলোই দেখা হবে।
ছোট পর্দায় অংশ না নেওয়ার কারণ কী?
আসলে সারা বছর শুটিং নিয়েই ব্যস্ত থাকতে হয়। তবে ঈদের অনুষ্ঠানমালার জন্য বিভিন্ন ধরনের সাক্ষাৎকার বা মজার কিছু অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়া হয়। এবারেও তিনটি টিভি অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছি। দেশ টিভিতে ‘সিনে স্টার’ ও মাছরাঙা টিভিতে ‘স্টার নাইট’ নামের একটি সাক্ষাৎকারমূলক অনুষ্ঠান করেছি। আর আরটিভিতে ‘নাচিয়ে’ নামের একটি একক নাচের অনুষ্ঠান করেছি। তবে টেলিভিশনে এটিই আমার প্রথম নাচের অনুষ্ঠান।
এ সব অনুষ্ঠানগুলো কেমন উপভোগ করলেন?
মাছরাঙার অনুষ্ঠানে খুবই মজা হয়েছে। এখানে উপস্থাপক ছিলেন মারিয়া নূর। অনুষ্ঠানে শাবনূর-সালমান শাহের একটি ছবির গান নিজেই গাওয়ার চেষ্টা করেছি। কিন্তু গানটির মুখটি গাওয়ার পর তা আর পারিনি। অভ্যস্ত না তো।
আর নাচের অনুষ্ঠান?
সেটিও খুবই ভালো হয়েছে। টেলিভিশনের নাচের প্রথম অভিজ্ঞতা। এখানে পাঁচটি গানের সঙ্গে নৃত্য করেছি। আমার নিজের অভিনীত ছবির তিনটি গানে আর ভারতের ও বাংলাদেশের দুটি আধুনিক গানের সঙ্গে নেচেছি। এ অনুষ্ঠানে দর্শকেরা আমাকে নতুন ভাবে দেখতে পাবেন।
‘ঢাকা অ্যাটাক’ ছবির শুটিং শুরু হবে কবে?
২৫ নভেম্বর থেকে শুটিং শুরু, শেষ হবে আগামী বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি। শুটিং শুরুর দুদিন আগে ধুমধাম করে এ ছবির মহরত করার কথা আছে। এই ছবিটির গল্প একেবারেই আলাদা। আমাকেও এ ছবির জন্য আলাদা করে প্রস্তুতি নিতে হচ্ছে।
অগ্নি-২ ছবির শুটিং শুরু থেকে মুক্তির পর পর্যন্ত প্রায় আট মাস আপনার নতুন কোনো ছবির কাজে দেখা যায়নি। এর কারণ?
ইচ্ছা করেই কোনো কাজ হাতে নিইনি। মাঝখানে জাজ মাল্টিমিডিয়ার সঙ্গে নিজের বোঝাপড়ার একটা ঝামেলা ছিল। সবকিছু মিলিয়ে একটু সময় হাতে নিয়েই কাজ করতে চেয়েছি। তবে এ সময়ের মধ্যে প্রচুর ছবির প্রস্তাব পেয়েছি। বেশির ছবির গল্পই ভালো লাগেনি। ছবির গল্প আর আমার সঠিক পারিশ্রমিক নিয়ে কোনো আপস করছি না।
কবে থেকে নিয়মিত হবেন?
এই তো নভেম্বর থেকে দীপংকর দীপনের ‘ঢাকা অ্যাটাক’ দিয়ে কাজ শুরু করছি। এর পরপরই আমার নিজের প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান স্করপিয়ন ও কলকাতার পরিচালক অশোক পতির সঙ্গে মিলে যৌথ প্রযোজনায় ‘মায়ার বাঁধন’ নামে একটি ছবির কাজ শুরু করব। ছবিটি পরিচালনাও করছেন অশোক পতি। এভাবেই নিয়মিত কাজ শুরু হয়ে যাবে।

কালাইয়ে কিডনি বেচাকেনার দালাল সন্দেহে আটক ২

জয়পুরহাটের কালাই উপজেলায় অভাবী মানুষকে অর্থের প্রলোভন দেখিয়ে কিডনি বেচাকেনা ব্যবসার দালাল সন্দেহে গতকাল বৃহস্পতিবার দুজনকে আটক করেছে পুলিশ। তাঁরা হলেন উপজেলার বহুতি গ্রামের আবদুস সাত্তার (৪০) ও মিজানুর রহমান (২১)।
পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের অভাবী মানুষকে টাকার প্রলোভন দেখিয়ে একটি চক্র দীর্ঘদিন ধরে কিডনি বেচাকেনার ব্যবসা চালিয়ে আসছিল। এ ঘটনায় ২০১১ সালে প্রথম আলোয় প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।
পরে ওই চক্রের অন্তত পাঁচজন আবার কিডনি বেচাকেনার ব্যবসায় সক্রিয় হয়ে ওঠেন। এ ঘটনায় গতকাল প্রথম আলোয় ‘একই দালালেরা আবার কিডনি বাণিজ্যে’ শিরোনামে খবর প্রকাশিত হয়। এরপর ওই দুজনকে আটক করে পুলিশ।
অভিযোগ রয়েছে, গত নয় মাসে দালালেরা কালাইয়ের তিনটি ইউনিয়নের অন্তত ১৫ জন দরিদ্র নারী-পুরুষের কিডনি বিক্রি করিয়েছেন। কিডনি বিক্রেতাদের ভুয়া নাম-ঠিকানা দিয়ে জাল জাতীয় পরিচয়পত্র, পাসপোর্ট ও ভিসা করিয়ে ভারতে নিয়ে গিয়ে কিডনি আহরণ করা হচ্ছে। ঢাকায় নিয়ে শারীরিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে কিডনি আহরণের জন্য তৈরি রাখা হয়েছে আরও ১০ জনকে।
কালাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রমজান আলী গতকাল রাত নয়টার দিকে প্রথম আলোকে জানান, পুলিশের করা মামলায় সাত্তার কারাগারে ছিলেন। পরে তিনি আদালত থেকে জামিনে বেরিয়ে আসেন। মিজানুর ওই চক্রের নতুন সদস্য কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। মামলার প্রক্রিয়া চলছে।

বৃষ্টি হতে পারে আরও কয়েক দিন

বৃষ্টি হতে পারে আরও কয়েক দিন

বিশেষ প্রতিনিধি | আপডেট: | প্রিন্ট সংস্করণ
বৃষ্টি শুরু হয়েছিল ভাদ্রের শেষে। মাঝখানে কয়েক দিনের বিরতি। তারপর বৃষ্টি হচ্ছে প্রায় দিনই। আশ্বিনের এই বৃষ্টি চলতে পারে আরও কয়েক দিন। আগামীকাল পবিত্র ঈদুল আজহার দিনেও হতে পারে মেঘ-বৃষ্টি। তবে আগামী শনি-রোববার থেকে বৃষ্টির প্রবণতা কমে আসার সম্ভাবনা রয়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের সূত্র এ পূর্বাভাস দিয়েছে। গত কয়েক দিনের মতো গতকাল বুধবারও ঢাকাসহ দেশের প্রায় সর্বত্র বৃষ্টি হয়েছে। সারা দিনই আকাশ ছিল মেঘে আচ্ছন্ন। আজ বৃহস্পতিবারও কম-বেশি এ রকমই আবহাওয়া থাকতে পারে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের পরিচালক মো. শাহ্ আলম গতকাল প্রথম আলোকে বলেন, হালকা-পাতলা বৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। ঈদ উদ্যাপনে বিঘ্ন সৃষ্টি হতে পারে, এমন কোনো দুর্যোগ পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা নেই।
আবহাওয়ার সংশ্লিষ্ট তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে কয়েকজন আবহাওয়াবিদ বলেন, মৌসুমি বায়ু বাংলাদেশ-সংলগ্ন উত্তর বঙ্গোপসাগরে মাঝারি অবস্থায় রয়েছে। তবে প্রায় সমগ্র বাংলাদেশের ওপর মৌসুমি বায়ু যথেষ্ট সক্রিয় অবস্থায় রয়েছে। এই মৌসুমি বায়ুর অক্ষের বর্ধিত অংশ বিস্তৃত রয়েছে ভারতের উত্তর প্রদেশ, বিহার, পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশের উত্তরাংশ হয়ে ভারতের আসাম পর্যন্ত। এই অবস্থায় দেশের সব বিভাগের অধিকাংশ এলাকায় আজ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে। এ ছাড়া কোনো কোনো স্থানে মাঝারি ধরনের ভারী থেকে ভারী বৃষ্টিপাতেরও সম্ভাবনা আছে। কাল শুক্রবারও বৃষ্টিপাতের একই প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে। তবে এখন প্রতিদিনই বৃষ্টি কমে আসবে বলে আবহাওয়াবিদেরা মনে করছেন।
আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনুযায়ী, বৃষ্টিপাতের সঙ্গে থাকতে পারে অস্থায়ী দমকা হাওয়াও। স্থলভাগে এই হাওয়ার গতি হবে ঘণ্টায় ১০ থেকে ১৫ কিলোমিটার। আর নদীবন্দর এলাকাগুলোতে এই হাওয়ার গতি ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার পর্যন্ত হতে পারে।
কয়েকজন আবহাওয়াবিদ বলেন, আগামী শনি-রোববার থেকে বৃষ্টি-বাতাসের প্রবণতা কমে আসার সম্ভাবনা রয়েছে। এরপর সমুদ্রে লঘুচাপ বা এই ধরনের কোনো কিছু সৃষ্টি না হলে ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে বৃষ্টিপাত কমবে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের সূত্র বলেছে, অব্যাহতভাবে মেঘ-বৃষ্টি থাকায় চলতি সপ্তাহে দেশের ওপর প্রতিদিন গড়ে উজ্জ্বল সূর্যালোক ছিল চার ঘণ্টার মতো। আগামী সপ্তাহে তা পাঁচ থেকে ছয় ঘণ্টায় উন্নীত হতে পারে।

কখন কোথায় ঈদ জামাত

২০১৯ সালে বৈদ্যুতিক গাড়ি আনবে অ্যাপল

কম্পিউটার কিংবা স্মার্টফোনের বাজার ছাড়িয়ে এখন গাড়ির দিকে নজর দিয়েছে অ্যাপল ইনকরপোরেট। ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানাচ্ছে, বেশ জোরেশোরে অ্যাপল তাদের কর্মী ও গবেষকদের নিয়ে মাঠে নেমেছে। ২০১৯ সালের মধ্যেই তারা এই প্রজেক্ট সবার সামনে নিয়ে আসতে চায়।
তথ্যপ্রযুক্তিবিষয়ক ওয়েবসাইট দ্য ভার্জের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে এ খবর। ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল আরো জানায়, ‘প্রজেক্ট টাইটান’ শিরোনামে এই প্রজেক্টকে বেশ গুরুত্ব দিচ্ছে অ্যাপল। প্রতিষ্ঠানটির বিভিন্ন বিভাগ থেকে প্রায় ৬০০ কর্মীকে এই প্রজেক্টের জন্য নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। পরে আরো বেশ কিছু কর্মী নিয়োগ দেওয়া হয়। এরা সবাই এখন নিরলসভাবে খেটে যাচ্ছে প্রজেক্ট টাইটানের জন্য। প্রাথমিকভাবে এই অ্যাপল কার ২০২০ সালে আসার কথা থাকলেও অ্যাপল চায়, আরো আগেই একে বাজারে নিয়ে আসতে।
এ ছাড়া অ্যাপল বিভিন্ন অটোমোবাইল প্রতিষ্ঠান থেকে বিশেষজ্ঞ নিয়োগ দিয়েছে তাদের ইলেকট্রিক কার তৈরির জন্য। তবে প্রতিষ্ঠানটির জন্য অন্য সব উদ্ভাবনের চেয়ে এই উদ্ভাবন অনেক বেশি চ্যালেঞ্জিং হতে যাচ্ছে বলে অনেক বিশ্লেষকের ধারণা। এর কারণ হিসেবে তারা জানাচ্ছে অটোমোবাইল সামগ্রী নির্মাণে অ্যাপলের অনভিজ্ঞতাকে। তবে এই বৈদ্যুতিক কার সম্পূর্ণভাবে স্বচালিত হতে যাচ্ছে না। যদিও অ্যাপল চালকবিহীন গাড়ি নির্মাণের দিকে বেশ আগ্রহী। তাদের ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনাও সে ধারণাকে কেন্দ্র করে। ২০১৯ সালে অ্যাপল কার আসলেই বাজারে আসতে পারবে কি না, তা নিয়ে অনেকের মনেই সংশয় রয়েছে। তবে যা-ই হোক, অ্যাপলের এমন তোড়জোড় অ্যাপল-ভক্তদের সঙ্গে সঙ্গে প্রযুক্তি দুনিয়ার দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য যথেষ্ট। অবশ্য চার বছর এখনো অনেক লম্বা সময়। এ সময়ের মধ্যে অ্যাপল তাদের প্রজেক্ট নিয়ে আরো বেশি চমক হাজির করবে সবার সামনে, এমনটাই সবার আশা।

১২.৫ ইঞ্চি পর্দার ল্যাপটপ আনছে তোশিবা

ফোরকে রেজ্যুলেশন স্ক্রিনের নতুন একটি ল্যাপটপ নিয়ে এসেছে তোশিবা। এই ল্যাপটপকে তারা বলছে আল্ট্রা এইচডি ফোরকে রেজ্যুলশন সমৃদ্ধ পৃথিবীর প্রথম ১২.৫ ইঞ্চি পর্দার ল্যাপটপ। হাইব্রিড এই ল্যাপটপের নাম রাখা হয়েছে স্যাটেলাইট র‍্যাডিয়াস ১২। এ খবর জানিয়েছে ম্যাশেবল ও দ্য ভার্জ।
এই ল্যাপটপে আছে ৩৮৪০x২১৬০ পিক্সেলের স্ক্রিন। স্ক্রিনটিতে রয়েছে আইপিএস প্যানেল এবং সার্টিফায়েড টেকনিকালার। এর মানে হচ্ছে এই স্ক্রিনে সর্বোচ্চ গুণগত মানের ছবি দেখা যাবে। সেই সঙ্গে ঝকঝকে স্ক্রিন তো রয়েছেই।  ষষ্ঠ জেনারেশনের ইন্টেল কোর প্রসেসরে চলবে ল্যাপটপটি। এতে থাকবে ৮ জিবি র‍্যাম। সে কারণে অনেক ভালো পারফর্মেন্স দিতে পারবে ল্যাপটপটি। সেই সঙ্গে অনেকক্ষণ চার্জ ধরে রাখতে পারবে তোশিবার এই ল্যাপটপ। তবে তোশিবা এখনো এ ব্যাপারে বিস্তারিত কিছু জানায়নি। 
ম্যাশেবল জানিয়েছে, এতে থাকছে অ্যালুমিনিয়ামের কেসিং, বেশ হালকাপাতলা এই ল্যাপটপ মাত্র ০.৬ ইঞ্চি পাতলা হবে এবং ওজন হবে ২.৯ পাউন্ড।  দ্য ভার্জ জানিয়েছে, এই ল্যাপটপে ব্যবহার করা হয়েছে মাইক্রোসফটের উইন্ডোজ হ্যালো প্রযুক্তি। যার মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা মুখ কিংবা ফিঙ্গারপ্রিন্টের মাধ্যমে ল্যাপটপে লগইন করতে পারবে। তোশিবার দাবি তাদের এইচডি ওয়েবক্যাম ‘উইন্ডোজ হ্যালো’ ব্যবহারের উপযোগী।  এ বছরের শেষের দিকে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে ছাড়া হবে তোশিবা স্যাটেলাইট রেডিয়াস ১২ ল্যাপটপটি।  তবে এর দাম কত হতে পারে সে সম্পর্কে কোনো ধারণা পাওয়া যায়নি।

ফ্রিল্যান্সিং শিখুন কভার লেটার তৈরি, সাক্ষাৎকারে করণীয়

আলামিন চৌধুরী ফ্রিল্যান্সিং শুরু করেন ২০০৪ সালে। বর্তমানে তিনি বেসিসের অঙ্গসংগঠন বিআইটিএমের প্র্যাকটিক্যাল এসইও, ডিজিটাল মার্কেটিং, অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিংয়ের লিড ট্রেইনার হিসেবে কর্মরত আছেন। তিনি বাংলাদেশের একজন শীর্ষস্থানীয় ইন্টারনেট মার্কেটিং প্রফেশনাল। বিশ্বের বিভিন্ন ইন্টারনেট মার্কেটিং ফোরামের সঙ্গে জড়িত রয়েছেন তিনি।
  আলামিন চৌধুরী ২০১১ সালে বেসিস আয়োজিত ‘বেস্ট ফ্রিল্যান্সার অ্যাওয়া‍র্ড’ প্রতিযোগিতায় শীর্ষস্থান অর্জন করেছিলেন এবং পরবর্তী সময়ে ২০১৩-১৪ বেসিস আউটসোর্সিং অ্যাওয়া‍র্ড প্রোগ্রামের একজন জুরি বোর্ড মেম্বার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
বর্তমানে বাংলাদেশ সরকারের অর্থ মন্ত্রণালয়ের অধীনে স্কিলস ফর এমপ্লয়মেন্ট ইনভেস্টমেন্ট প্রোগ্রাম (এসইআইপি) কর্মসূচির প্র্যাকটিক্যাল এসইও, ডিজিটাল মার্কেটিং এবং অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং—এ তিনটি ট্র্যাকের ট্রেনিং কার্যক্রম তাঁর তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হচ্ছে। মূলত যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, যুক্তরাজ্য, নেদার‍ল্যান্ডস ও অস্ট্রেলিয়ার বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তির সঙ্গে কাজ করছেন তিনি। এনটিভি অনলাইনের পাঠকের জন্য ফ্রিল্যান্সিংসহ অন্যান্য বিষয় নিয়ে প্রতি সোমবার নিয়মিত লিখছেন আলামিন চৌধুরী। গত পর্বে আমি আমার লেখায় একটি উদাহরণের মাধ্যমে দেখিয়েছি যে, একটি কভার লেটার কেমন হয় এবং এর প্রতিটি অংশের বর্ণনাও দিয়েছি। আজ আমি আপনাদের একটি মানসম্মত কভার লেটার কীভাবে লিখতে হয় এবং কী কী বিষয় লক্ষ রাখতে হয়, এ বিষয়ে জানাব। আসুন, আমরা এবার জানি কভার লেটার কী এবং একটি কভার লেটার লেখার সময় আপনাকে কোন বিষয়গুলোয় অধিক গুরুত্ব দিতে হবে। কভার লেটার কভার লেটার বলতে আমরা সাধারণত যেকোনো প্রকার জব অ্যাপ্লিকেশন লেটারকে বুঝি, যেখানে আপনি নিজেকে তুলে ধরেন, কাজের চাহিদা অনুযায়ী আপনার দক্ষতা কতটুকু এটি বর্ণনা করেন, আর যদি আপনার কোনো অভিজ্ঞতা থাকে সেটি বর্ণনা করে থাকেন এবং সম্ভাব্য ক্লায়েন্ট বা বায়ারের সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে কাজ করার সুযোগ চেয়ে অনুরোধ জানান। আপওয়ার্কেও এর ব্যতিক্রম নয়। এখানে আপনি কোনো একটি নির্দিষ্ট কাজ পাওয়ার জন্য আপনার অভিজ্ঞতা ও দক্ষতার বর্ণনা দিয়ে ক্লায়েন্টের কাছে যে আবেদনপত্রটি প্রেরণ করে থাকেন, তাকেই কভার লেটার বলে। সাধারণত কভার লেটারটি প্রথমে ওয়ার্ড ফাইলে লিখে চেক করে নিতে পারেন কোনো স্পেলিং বা গ্রামাটিক্যাল মিসটেক আছে কি না। যদি এ ধরনের কোনো সমস্যা না থাকে, তাহলে লেটারটি কপি করুন এবং আপওয়ার্কে পেস্ট করুন। আপওয়ার্কের হেল্প সেন্টারের মতামত অনুয়ায়ী, কভার লেটার ২০০ থেকে ২৫০ ওয়ার্ডের মধ্যে হলে ভালো।   কাজের বর্ণনা আপনাকে যেকোনো কাজে বিড করার আগে এই কাজ সম্পর্কে ভালোভাবে বুঝতে হবে। কাজের প্রধান প্রধান কি-ওয়ার্ডগুলো বের করতে হবে। আপনাকে বুঝতে হবে, ক্লায়েন্ট কোন বিষয়গুলো বেশি প্রাধান্য দিচ্ছে। আপনাকেও ওই বিষয়গুলো মাথায় রেখে কভার লেটার লিখতে হবে। অনেক সময় ক্লায়েন্ট আপনাকে পরীক্ষা করার জন্য বর্ণনার মধ্যে একটি নির্দিষ্ট শব্দ বা শব্দগুচ্ছকে আপনার কভার লেটারের মধ্যে ব্যাখ্যা করতে বলে। এটা দ্বারা সে বুঝতে চেষ্টা করে, আপনি যে কাজের জন্য বিড করছেন তার বর্ণনাটি ঠিকমতো পড়েছেন কি না। ক্লায়েন্ট সম্পর্কে ধারণা কাজে বিড করার আগে আপনাকে ক্লায়েন্টের সম্পর্কে প্রাথমিক কিছু ধারণা নিতে হবে। যেমন ধরুন, ক্লায়েন্টের নাম, তার পূর্বের কাজগুলো সম্পর্কে জানা, ক্লায়েন্ট সাধারণত কেমন রেটে কাজ করিয়ে থাকে, ক্লায়েন্টের টাইমজোন ইত্যাদি। কারণ, আপনি যদি ক্লায়েন্টের নাম উল্লেখ করে জবে বিড করেন, তাহলে সে বুঝতে পারে যে আপনি তার কাজটিকে গুরুত্বসহকারে দেখেছেন এবং তার সম্পর্কেও রিসার্চ করেছেন। অতিরিক্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া অনেক সময় ক্লায়েন্ট আপনাকে কাজের সম্পর্কে কভার লেটারের বাইরে কিছু প্রশ্ন করে থাকে এবং আপনাকে কভার লেটার শুরু করার আগেই এ প্রশ্নের উত্তর সঠিকভাবে গুছিয়ে নিতে হবে। এর মাধ্যমে ক্লায়েন্ট আপনার কাজের ধরন সম্পর্কে জানতে পারে বা আপনি এ কাজ করতে পারবেন কি না, এ সম্পর্কে ধারণা লাভ করে থাকে। কাজের পূর্ব অভিজ্ঞতার প্রমাণ দেওয়া আপনি যে কাজের জন্য বিড করছেন, এ ধরনের কোনো কাজের যদি আপনার কোনো পূর্ব অভিজ্ঞতা থেকে থাকে, তাহলে এটি আপনাকে নতুন কাজ পেতে অনেক সাহায্য করে। কারণ, ক্লায়েন্ট যখন দেখে যে আপনি এ ধরনের কাজ আগেও করেছেন, তখন সে আপনাকে কাজটি দিতে ভরসা পায়। কভার লেটার দেওয়ার সময় আপনি চাইলে আপনার পূর্ব অভিজ্ঞতা বা কাজ সম্পর্কিত কোনো ফাইল সংযুক্ত করে দিতে পারেন। কাজের প্রাইস বা রেট নির্ধারণ আপনাকে আপনার কাজের নির্দিষ্ট প্রাইস বা ঘণ্টাপ্রতি রেট কভার লেটারের ফরমে উল্লেখ করে দিতে হবে। এ ক্ষেত্রে ক্লায়েন্ট পূর্বে এ ধরনের কাজ কত রেটে করিয়েছেন, তা আপনি দেখে নিতে পারেন। তাহলে আপনি কত রেটে বিড করতে পারেন, সে সম্পর্কে একটি ধারণা পাবেন। কভার লেটার লেখার নিয়ম কভার লেটারের শুরুতে আপনি ক্লায়েন্টের নাম ধরে সম্বোধন করতে পারেন, যদি আপনি তার পূর্বের কাজগুলো থেকে তার নাম জেনে থাকেন। এর পর তার টাইমজোন অনুযায়ী তাকে শুভেচ্ছা জানান। যেমন : সকাল হলে ‘গুড মর্নিং’। কভার লেটারের শুরুতেই চেষ্টা করবেন কাজটি আপনি কীভাবে সম্পন্ন করবেন, এ প্রক্রিয়া বর্ণনা করতে। কখনই প্রথমে আপনি আপনার নিজের প্রশংসায় পঞ্চমুখ হবেন না। কারণ, ক্লায়েন্টের কাছে যখন আপনার এই অফার লেটার যায়, তখন সে পুরো অংশটা দেখতে পারে না। তাই আপনাকে চেষ্টা করতে হবে যেন প্রথম দুই লাইনের মধ্যেই আপনি এমন কিছু লিখবেন, যা ক্লায়েন্ট পড়ার পর আপনার পুরো লেখাটা পড়ার আগ্রহ পায়। সুতরাং আপনাকে চেষ্টা করতে হবে এই অল্প কথার মধ্যেই কাজের প্রক্রিয়াটি সহজে বর্ণনা করতে। আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে, ক্লায়েন্টকে আপনার কাজ করার সময় সম্পর্কে জানান। যেমন : আপনি প্রতি সপ্তাহে ৩০ ঘণ্টা কাজ করবেন। এটি উল্লেখ করলে ক্লায়েন্ট একটি ধারণা পায় যে কত দিনে আপনি কাজটি করতে পারবেন বা সর্বোচ্চ কত সময় লাগতে পারে কাজটি শেষ করতে। এ ছাড়া আপনি এটি উল্লেখ করতে পারেন যে আপনি প্রতি সপ্তাহে তাকে কাজের একটি আপডেট রিপোর্ট দেবেন। যেখানে আপনি এক সপ্তাহে শেষ করা কাজের বর্ণনা দেবেন। এর পরে আপনি এই কাজ করার জন্য আপনার কতটুকু অভিজ্ঞতা আছে, আপনার দক্ষতা কোন বিষয়গুলোতে বেশি এ বিষয়গুলো এখানে তুলে ধরতে পারেন। কখনই একই কভার লেটার কপি করে বারবার সেটি ব্যবহার করবেন না। তাহলে এটি স্প্যাম হিসেবে গণ্য হবে। সব সময়ই চেষ্টা করবেন প্রতিটি জবের জন্য ইউনিক কভার লেটার লিখতে। মূল কথা, এই কভার লেটারের মাধ্যমেই আপনার ক্লায়েন্টকে বোঝাতে হবে যে, আপনি কাজটি সম্পর্কে পুরোপুরি বুঝতে পেরেছেন এবং আপনি কাজটি অনেক ভালোভাবে সম্পন্ন করে দিতে সক্ষম। আর আপনি যে তার এই কাজটি করতে কতটা আগ্রহী, এটি বোঝানোর মাধ্যমে কভার লেটারটি শেষ করুন। তাহলেই আপনি ইন্টারভিউর জন্য আশা করতে পারেন। একটি সাক্ষাৎকার সফল করতে করণীয় বিষয়গুলো আপনাকে যদি প্রাথমিকভাবে ক্লায়েন্ট নির্বাচন করেন, তাহলে সে আপনাকে ইন্টারভিউ অফার করবে। এই ইন্টারভিউ হতে পারে আপওয়ার্ক মেসেজের মাধ্যমে বা হতে পারে Skype মেসেঞ্জারের মাধ্যমে। তবে ইন্টারভিউ যেখানেই হোক না কেন, আপনাকে যেদিকে লক্ষ রাখতে হবে সে বিষয়গুলো হচ্ছে—
  • ক্লায়েন্টের টাইমজোন অনুযায়ী নিজেকে প্রস্তুত রাখুন। ক্লায়েন্ট তার সময়মতো আপনাকে ইন্টারভিউর জন্য কল করবে এবং আপনাকে ওই সময়েই তার সঙ্গে ইন্টারভিউতে আসতে হবে। তা না হলে আপনি কাজটি হারাবেন।
  • ইন্টারভিউর আগে ক্লায়েন্ট সম্পর্কে কিছু তথ্য জেনে নিন এবং তার বিজনেস বা প্রোডাক্ট সম্পর্কে একটি স্বচ্ছ ধারণা রাখুন। এটি আপনাকে ইন্টারভিউতে অনেকখানি এগিয়ে রাখবে।
  • যখন আপনার ক্লায়েন্ট ইন্টারভিউ নেবে, তখন তাকে সম্মান জানান। তার সঙ্গে ভদ্রতার সঙ্গে কথা বলুন এবং প্রফেশনালিজম বজায় রাখুন।
  • ইন্টারভিউর সময় সত্য কথা বলবেন। কখনই কোনো কারণে মিথ্যার আশ্রয় নেবেন না। ক্লায়েন্টের সব জিজ্ঞাসার সঠিক উত্তর দিতে চেষ্টা করুন।
  • সব সময় ইন্টারভিউর শেষে পজিটিভ কথা বলবেন। ক্লায়েন্টের কাছে কাজের ডেটলাইন সম্পর্কে জেনে নিন এবং সে অনুযায়ী একটি কর্মপরিকল্পনা তাকে দিন। ইন্টারভিউ শেষ হলে ক্লায়েন্টকে ধন্যবাদ জানাতে ভুলবেন না।
  • আপনি ইন্টারভিউ শেষ হওয়ার পর ক্লায়েন্টের সঙ্গে নির্ধারিত কথা অনুযায়ী কাজ শুরু করুন। তবে আপনাকে হায়ারিং লেটার পাঠানোর পরে আপনি সম্পূর্ণভাবে কাজ শুরু করুন। কোনো কিছু জানতে হলে আপওয়ার্কের মাধ্যমে ক্লায়েন্টকে মেসেজ করুন।
  • সব সময় চেষ্টা করবেন ক্লায়েন্টকে কাজের আপডেট জানাতে। আপনি প্রতি সপ্তাহে তাকে আপনার কাজের একটি আপডেট রিপোর্ট দিন। এতে করে ক্লায়েন্ট বুঝতে পারবে, আপনি কীভাবে তার কাজটি করছেন এবং কাজটি ঠিকমতো সম্পন্ন হচ্ছে কি না।
এভাবে কিছু পূর্বপ্রস্তুতি এবং পরিকল্পনার মাধ্যমে আপনি একটি ইন্টারভিউ সফলভাবে শেষ করতে পারবেন। সব সময় চেষ্টা করবেন, কাজের ডেটলাইনের আগেই কাজটি সাবমিট করতে। এবং কাজটি সুন্দর একটি রিপোর্ট আকারে আপনার ক্লায়েন্টের সামনে উপস্থাপন করুন (রিপোর্টটি হতে পারে একটি ওয়ার্ড বা এক্সেল ফাইল অথবা একটি পিডিএফ ফাইল)। কাজ শেষ হয়ে গেলেও ক্লায়েন্টের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখুন। এতে করে ভবিষ্যতে আপনার কাজ পাওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যাবে।  

ক্যানসার নিরাময়ে কার্যকর হতে পারে লঙ্কার অণু!

মরিচের গুণ শুধু স্বাদেই সীমাবদ্ধ নয়। মানুষের শরীরে নানাবিধ উপকারে মরিচ কার্যকর ভূমিকা রাখে। সবজি ছাড়াও ভেষজ হিসেবে মরিচের ব্যবহার সুপ্রাচীন। প্রকৃতিতে এই যে বিচিত্র রং, গন্ধ কিংবা স্বাদ, এর সবই অণুর জন্য। বিভিন্ন স্বাদের জন্য নানা প্রকার অণু দায়ী। মরিচে থাকে ক্যাপসাইসিন নামে একটি অণু। সে অণুর জন্যই প্রধানত মরিচ স্বাদে ঝাল।
মরিচের অণু ক্যাপসাইসিন, ক্যানসার রোধেও হতে পারে কার্যকর। সম্প্রতি এক গবেষণায় সে বিষয়ে আরো এক ধাপ প্রমাণ মেলেছে। প্রোস্টেট ক্যানসার (Prostate cancer) নিরাময়ে, ক্যাপসাইসিন অণুর প্রাথমিক ফলাফল এক দশক ধরেই জানা বিজ্ঞানীদের। ইঁদুরের ওপর পরীক্ষা করে খুবই আশাব্যঞ্জক ফলাফলও পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা। কিন্তু এই অণু কীভাবে সুস্থ কোষ (leaving healthy cells) বিনষ্ট না করে, নির্দিষ্টভাবে ক্যানসার কোষগুলোকে (Cancer Cells) ধ্বংস করে, সেটা নিয়ে অনেক দিন ধরেই ছিল বিতর্ক। সম্প্রতি ভারতের একদল রসায়নবিদের গবেষণায় সে বিষয়ে নির্ভরযোগ্য ফলাফল পাওয়া গেছে। গবেষণার সে ফলাফল প্রকাশ হয়েছে জার্নাল অব ফিজিক্যাল কেমেস্ট্রি-বি (Journal of Physical Chemistry B) নামে আমেরিকান কেমিক্যাল সোসাইটির (ACS) জার্নালে। গত সপ্তাহে খবরটি রসায়নের জগতে বেশ সাড়া জাগিয়েছে। বিজ্ঞানীরা মনে করছেন, আরো গভীরভাবে এই ক্রিয়াকৌশল (Mechanism) জানলে, এই অণু থেরাপিতে প্রয়োগ করা যাবে শিগগিরই। 
অণুরা যখন মানুষের জন্য খুব উপকারী হয়ে ওঠে, তখন অণুদের প্রতি এক অন্য রকম মমতা জাগে। ক্যাপসাইসিন অণু যদি প্রোস্টেট ক্যানসার নিরাময়ে কার্যকর ভূমিকা রাখে, তাহলে এই অণু হয়ে যাবে একুশ শতকের এক অনন্য অণু। বেঁচে যাবে কত কত প্রাণ! অণু তথা রসায়নের সবচেয়ে সুন্দর এবং শক্তিশালী দিক এটাই।   সূত্র : J. Phys. Chem. B, 2015, 119(36), 12086-12093 লেখক : গবেষক, জৈব রসায়ন, স্টকহোম বিশ্ববিদ্যালয়, সুইডেন। 

২০১৯ সালে বৈদ্যুতিক গাড়ি আনবে অ্যাপল

কম্পিউটার কিংবা স্মার্টফোনের বাজার ছাড়িয়ে এখন গাড়ির দিকে নজর দিয়েছে অ্যাপল ইনকরপোরেট। ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানাচ্ছে, বেশ জোরেশোরে অ্যাপল তাদের কর্মী ও গবেষকদের নিয়ে মাঠে নেমেছে। ২০১৯ সালের মধ্যেই তারা এই প্রজেক্ট সবার সামনে নিয়ে আসতে চায়।
তথ্যপ্রযুক্তিবিষয়ক ওয়েবসাইট দ্য ভার্জের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে এ খবর। ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল আরো জানায়, ‘প্রজেক্ট টাইটান’ শিরোনামে এই প্রজেক্টকে বেশ গুরুত্ব দিচ্ছে অ্যাপল। প্রতিষ্ঠানটির বিভিন্ন বিভাগ থেকে প্রায় ৬০০ কর্মীকে এই প্রজেক্টের জন্য নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। পরে আরো বেশ কিছু কর্মী নিয়োগ দেওয়া হয়। এরা সবাই এখন নিরলসভাবে খেটে যাচ্ছে প্রজেক্ট টাইটানের জন্য। প্রাথমিকভাবে এই অ্যাপল কার ২০২০ সালে আসার কথা থাকলেও অ্যাপল চায়, আরো আগেই একে বাজারে নিয়ে আসতে।
এ ছাড়া অ্যাপল বিভিন্ন অটোমোবাইল প্রতিষ্ঠান থেকে বিশেষজ্ঞ নিয়োগ দিয়েছে তাদের ইলেকট্রিক কার তৈরির জন্য। তবে প্রতিষ্ঠানটির জন্য অন্য সব উদ্ভাবনের চেয়ে এই উদ্ভাবন অনেক বেশি চ্যালেঞ্জিং হতে যাচ্ছে বলে অনেক বিশ্লেষকের ধারণা। এর কারণ হিসেবে তারা জানাচ্ছে অটোমোবাইল সামগ্রী নির্মাণে অ্যাপলের অনভিজ্ঞতাকে। তবে এই বৈদ্যুতিক কার সম্পূর্ণভাবে স্বচালিত হতে যাচ্ছে না। যদিও অ্যাপল চালকবিহীন গাড়ি নির্মাণের দিকে বেশ আগ্রহী। তাদের ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনাও সে ধারণাকে কেন্দ্র করে। ২০১৯ সালে অ্যাপল কার আসলেই বাজারে আসতে পারবে কি না, তা নিয়ে অনেকের মনেই সংশয় রয়েছে। তবে যা-ই হোক, অ্যাপলের এমন তোড়জোড় অ্যাপল-ভক্তদের সঙ্গে সঙ্গে প্রযুক্তি দুনিয়ার দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য যথেষ্ট। অবশ্য চার বছর এখনো অনেক লম্বা সময়। এ সময়ের মধ্যে অ্যাপল তাদের প্রজেক্ট নিয়ে আরো বেশি চমক হাজির করবে সবার সামনে, এমনটাই সবার আশা।

পোষা কুকুর মারতে ফেসবুকে পোস্ট!

ফেসবুক মানুষের অনেক কাজেই আসে। অন্যের কাছে কোনো ব্যাপারে সাহায্য চেয়ে প্রায়ই পোস্ট করতে দেখা যায় ব্যবহারকারীদের। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসের এক নারীর কাণ্ড যেন সবকিছুকে হার মানাল। সেই নারী নিজে ঠিকমতো যত্ন-আত্তি করতে পারছেন না দেখে নিজের কুকুরকে মেরে ফেলার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। আর মেরে ফেলার জন্য মানুষ খুঁজতে শেষমেশ ফেসবুকে পোস্ট করে বসেছেন। এ নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে মার্কিন দৈনিক ইউএস টুডে।
‘আমার কুকুরকে গুলি করার জন্য আমার কাউকে দরকার। এই কাজ করার মতো হৃদয় এখানে কারোর নেই। তবে আমরা গুলি করার জন্য বন্দুক দেবো।’ গত বৃহস্পতিবার এ রকম একটি পোস্ট আসে টেক্সাসের ট্রুপে বসবাস করা এক নারীর ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে। এর পর যুক্তরাষ্ট্রসহ সারা বিশ্বের পশুপ্রেমীর মধ্যে তোলপাড় শুরু হয়ে যায় এটি নিয়ে। সিন্নামন নামের তিন বছর বয়সী কুকুরটি সেইন্ট বার্নার্ড এবং ইংলিশ বুলডগের শঙ্কর।
তবে কুকুরটিকে আর শেষ পর্যন্ত খুন করতে হয়নি। অ্যানিমেল কন্ট্রোল অফিসাররা কুকুরটিকে রক্ষা করতে গেলে সেই নারী তাদের হাতে তুলে দেন কুকুরটি। রক্ষাকারী কর্মকর্তারাই জানান, কুকুরটিকে তার মালিক মারতে চেয়েছিল, কারণ মহিলাটি কুকুরটির সঠিক যত্ন নিতে পারছিলেন না এবং সিন্নামনকে আবর্জনার মধ্যে থাকতে হতো সব সময়। পুরো ঘটনার ব্যাপারে অ্যানিমেল শেল্টার কো-অর্ডিনেটর ন্যানেট মস বলেন, ‘এটি বিস্ময়কর! আমি সারা দিন কুকুরের সঙ্গে কাটাই এবং এরাই আমার জীবন। যখন সে আমার দরজা দিয়ে হেঁটে গেল, আমার হৃদয় ভেঙে যাচ্ছিল। সে খুবই সুন্দর একটি কুকুর। কীভাবে কারো পক্ষে এত সুন্দর একটি কুকুরকে গুলি করা সম্ভব?’ সিন্নামনের দেখভালের জন্য আপাতত একটি পালক পরিবারের কাছে রাখা হয়েছে তার নতুন মনিব খুঁজে পাওয়ার আগ পর্যন্ত। তবে স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, ওই মহিলার বিরুদ্ধে কোনোরূপ ব্যবস্থা নেওয়া হবে না, যেহেতু সে অ্যানিমেল কন্ট্রোলের শরণাপন্ন হয়েছে।

পানি বিশুদ্ধ করবে বইয়ের পাতা


রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০১৫

অনলাইনে বিক্রি হবে ‘আমির’, ‘সালমান’, ‘শাহরুখ’?

কোরবানির ঈদের আগে এখন বিক্রির আশায় অনলাইন ‘কুইকারে’ তোলা হয়েছে ‘আমির’, ‘সালমান’, ‘শাহরুখ’দের! শুনে ভড়কে গেলেন নাকি? তাহলে আরো জেনে রাখুন, নাম এবং ওজন হিসেবে ধার্য হয়েছে তাঁদের দামও! যেমন ধরুন, ‘শাহরুখের’ ওজন ৮৮ কেজি, দাম ৩৮ হাজার টাকা। ৮৪ কেজি ওজনের ‘আমির’ মিলবে ৩৫ হাজার টাকায়। আবার ৭২ কেজির ‘সালমান’ বিকোবে ৩১ হাজার টাকায়। অবাক হওয়ার কিছু নেই। আসলে ভারতের কোরবানি ঈদের বাজারে এখন এসব সেলিব্রেটি নামধারী ‘সিক্স প্যাক’ খাসির বিক্রি শুরু হয়েছে অনলাইনের মাধ্যমে।
চলছে ক্রেতার মধ্যে দরকষাকষিও। কোরবানির ঈদের বাজারে জনপ্রিয় এসব সেলেবের নাম দিয়ে খাসি বিক্রির ব্যবসা করছেন ভারতের ঝাড়খন্ড রাজ্যের ধানবাদের দুই ব্যবসায়ী কাঞ্চন দে ও বাদল দত্ত। ধানবাদ কৃষিবিজ্ঞান কেন্দ্রের ওই দুই ছাত্র পড়াশোনা শেষ করে সরাসরি পশুপালন এবং পশু বিক্রির পেশায় নেমে পড়েন। ফলে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে তাঁদের পালিত খাসিগুলোকে খাইয়ে-দাইয়ে মোটাতাজা করেও ফেলেছেন তাঁরা। কিন্তু মামুলি একটা খাসি বিক্রি করলে তো আর প্রচারের আলো কেড়ে নেওয়া যায় না! কাজেই একেবারে বলিউডের সেলেবদের নাম রেখে তাঁদের পোষ্য খাসিগুলোকে এখন অনলাইনে বিক্রির আশায় ছেড়েছেন তাঁরা। কয়েক বছর ধরে কোরবানির ঈদে পশু বিক্রি করে আসছেন কাঞ্চন ও বাদল। ধানবাদের হিরাপুরের বাসিন্দা এ দুই ব্যবসায়ী কোরবানির ঈদ উপলক্ষে এবারে শুধু ধানবাদের বাজারকেই বেছে নেননি, অনলাইনের মাধ্যমে সেলিব্রেটি নামধারী খাসিগুলোকে ছেড়ে দিয়েছেন মূলত বিশ্ববাজারে।
বুদ্ধিটা আসলে কাঞ্চন দের। তাঁর কথা, ‘এখন তো অনলাইন মার্কেটের যুগ। অনলাইনে আসবাবপত্র, খাবার-দাবার, ইলেকট্রনিক সামগ্রী থেকে কাঁচা সবজি—সবই বিকোচ্ছে। তাহলে আমরাও বা পিছিয়ে থাকি কেন? আর কোরবানির ঈদই তো পশু বিক্রির সেরা সময়। যে কারণে কোরবানির ঈদে ব্যবসায় মুনাফা ঘরে তুলতে অনলাইনের সাহায্য নিয়েছি আমরা।’ আপাতত অনলাইনে বিক্রির জন্য ‘আমির’, ‘সালমান’, ‘শাহরুখ’দেরই বেছে নিয়েছেন তাঁরা। তবে ওই তিন সুপারস্টারকে ছোট করার জন্য তাঁরা এ কাজ করেননি বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন। কাঞ্চন বলেন, “আমরা ‘আমির’, ‘সালমান’, ‘শাহরুখ’-এর অন্ধ ভক্ত। শুধুই তাঁদের নামকে ব্যবহার করে ব্যবসায় মুনাফা ঘরে তুলতে চেয়েছি। অবশ্য ‘আমির’, ‘সালমান’, ‘শাহরুখে’র মাধ্যমে মুনাফা এখনো ঘরে না এলেও প্রচারের তুঙ্গে রয়েছেন তাঁরা। বাদল দত্ত জানিয়েছেন, অনলাইনে তিনটে খাসির একটাও বিক্রি না হলেও প্রচুর পরিমাণে ফোন পাচ্ছি আমরা। আর ফোনে ক্রেতাদের জানিয়ে দিচ্ছি, কোরবানির ঈদে খাসির প্রয়োজন হলে চলে আসুন আমাদের কাছে। ফলে আর কিছু না হোক, আমাদের ব্যবসার পরিধি তো বাড়ছে। সেটাই বা কম কিসের? তবে কোরবানির ঈদের এখনো বাকি রয়েছে বেশ কয়েক দিন। তার মধ্যে ‘আমির’, ‘সালমান’, ‘শাহরুখ’রা অনলাইনে বিক্রি হয়ে যাবে বলে আশাবাদী কাঞ্চন ও বাদল। জানালেন, এবারে তিনটে খাসি বিক্রি হলে আগামী বছর আরো বেশি খাসিকে নতুন নাম দিয়ে অনলাইনে তুলে দেবেন তাঁরা। 

৯০ কেজির আমির!

সাধে কি আর তাঁকে ‘মিস্টার পারফেকশনিস্ট’ বলা হয়? যখন যেটা করেন, তা একেবারে নিখুঁতভাবে করতেই ভালোবাসেন তিনি। তাই তো অন্যদের থেকে বরাবর কিছুটা হলেও আলাদা তিনি।
ছবিতে চরিত্রের প্রয়োজনে নিজেকে আমূল বদলে ফেলতে কখনই পিছপা হন না বলিউডের অন্যতম খান, আমির খান। বারবার তিনি সেই নজির রেখেছেন। সম্প্রতি ‘দঙ্গল’ নামে এক সিনেমায় অভিনয় করার প্রয়োজনে ফের বদলে গেছেন আমির খান। ‘দঙ্গল’ ছবিতে পেশাদার এক কুস্তিগিরের ভূমিকায় অভিনয় করতে হবে তাঁকে। তাই তো এখন চরিত্রের প্রয়োজনে রীতিমতো মোটাসোটা হচ্ছেন আমির খান। তাগড়াই মার্কা চেহারা করার জন্য খাওয়া-দাওয়াই নাকি বেশ বাড়িয়ে দিয়েছেন আমির। এখন তাঁর ওজন ৯০ কেজি।
সে সঙ্গে গালভর্তি রেখেছেন পাকা দাড়ি। বেশ ভারিক্কি চেহারার আমির খানকে দেখলে এখন আর চেনাই যাচ্ছে না। ‘দঙ্গল’ সিনেমায় কুস্তিগিরের চরিত্রে অভিনয় করার জন্য আমির এরই মধ্যে নিজের চরিত্র, কথাবার্তা, এমনকি চালচলনেও বেশ পরিবর্তন এনে ফেলেছেন। কুস্তিগিরদের মতো বেশ একটা ঢিসুমঢিসুম ভাব যেন সব সময়ই তাঁর চেহারায় জেল্লা দিচ্ছে। আমিরের এবারের টার্গেট, ‘দঙ্গল’ ছবির মাধ্যমে ফের বলিউডে একটা ইতিহাস তৈরি করা। বারবার চরিত্রের প্রয়োজনে আমির নিজেকে বদলে ফেলেছেন। ১৯৯৫ সালে ‘বাজি’ ছবিতে তিনি মেয়ের সাজে সেজেছিলেন। ২০০৫ সালে ‘মঙ্গল পান্ডে’ ছবির জন্য রেখেছিলেন বড় একখানা গোঁফ। ‘গজনি’ ছবির জন্য শারীরিক কসরত কম করেননি। আবার ‘পিকে’ ছবির সময় নিজের ওজন অনেকটাই কমিয়েও ফেলেছিলেন তিনি। আসলে ছবির প্রয়োজনে কোনো কিছুই করতে পিছপা হন না আমির। শোনা যাচ্ছে, ‘দঙ্গল’ ছবিতে অভিনয় করার জন্য ওজন ৯০ কেজি বাড়িয়ে নাকি এখন শ্বাসকষ্টেও ভুগতে হচ্ছে তাঁকে। সে সঙ্গে নাকি সাবলীলভাবে হাঁটাচলাও করতে পারছেন না তিনি। তবে তাই বলে দমে যাওয়ার পাত্র নন তিনি। সবকিছু সহ্য করে নিখুঁত চরিত্রটি ফুটিয়ে তোলাই তাঁর একমাত্র লক্ষ্য। কুস্তিগির মহাবীর ফোগাটের জীবন নিয়ে ‘দঙ্গল’ ছবিটি নির্মিত হচ্ছে। আর মহাবীর ফোগাটকে পর্দায় ফুটিয়ে তুলতে এই ৫০ বছর বয়সেও ৩০ কেজি ওজন বাড়িয়ে ফেললেন আমির খান।

ফেসবুকেই পড়া যাবে খবর

সোশ্যাল মিডিয়ার জনপ্রিয়তা আমাদের প্রতিদিনের জীবনধারাকে যেমন প্রভাবিত করেছে তেমনি পাল্টে দিয়েছে আমাদের জীবনযাত্রার ধরন। প্রায় দেড় শ কোটি ব্যবহারকারী আছে ফেসবুকে।
অনলাইনের পাশাপাশি স্মার্টফোন ডিভাইসগুলোতেও রাজত্ব করছে ফেসবুক। সংবাদ পাওয়ার সূত্র হিসেবেও ব্যবহৃত হচ্ছে এই মাধ্যম। পৃথিবী বিখ্যাত সব গণমাধ্যমের রয়েছে নিজস্ব ফেসবুক পেজ। তবে গত কয়েক মাস ধরে ফেসবুক কর্তৃপক্ষ অন্তত ছয়টি বড় সংবাদ মাধ্যমের সাথে আলোচনা করেছে, যেন ফেসবুকেই খবর পড়ার ব্যবস্থা করা যায়। এসব আলোচনায় অংশগ্রহণকারীদের কয়েকজন নিউইয়র্ক টাইমসকে জানিয়েছেন, আগামী কয়েক মাসের মধ্যেই ফেসবুকে খবর পড়া যাবে। এজন্য ফেসবুক থেকে লিংক পেয়ে অন্য কোনো ওয়েবসাইটে আর যেতে হবে না।
নিউইয়র্ক টাইমসের খবরে আরো বলা হয়েছে, প্রাথমিকভাবে নিউইয়র্ক টাইমস, বাজফিড ও ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক যোগ দিতে পারে ফেসবুকের সাথে। হাফিংটন পোস্ট এবং ব্যবসা ও অর্থনীতি বিষয়ক ওয়েবসাইট কোয়ার্টজের সাথে আলোচনা করেছে ফেসবুকের কর্তাব্যক্তিরা। তবে এ ব্যাপারে এখনো স্পষ্ট করে কিছু জানায়নি ফেসবুক বা গণমাধ্যমগুলোর কর্তৃপক্ষ। সংবাদ মাধ্যমের পাশাপাশি প্রকাশকদের সাথেও বৈঠক করছে ফেসবুক। যাতে নিউজফিডের মতো করে বইয়ের বিজ্ঞাপন দেওয়া যায় পাঠকদের জন্য বা ফেসবুকেই বই পড়ার সুবিধা পাওয়া যায়। ফেসবুক থেকে লিংক পেয়ে আরেকটি ওয়েবসাইটে যেতে গড়ে ৮ সেকেন্ড সময় লাগে। ফেসবুক কর্তৃপক্ষের মতে, এটা দীর্ঘ সময়। বিশেষ করে মোবাইল ডিভাইস দিয়ে যারা ফেসবুক ব্যবহার করেন তাদের জন্য তো অবশ্যই অনেক সময়ের ব্যাপার। এর বদলে যদি ফেসবুকেই পুরো সংবাদটা পড়ে ফেলা যায় তাহলে ব্যবহারকারীদের সময় বাঁচবে, এর ফলে ব্যবহারকারীরা আরো বেশি সময় ফেসবুকে কাটাবে। এর আগে ব্যবহারকারীদের আগ্রহ ধরে রাখার জন্য ফেসবুকে ভিডিও দেখার ব্যবস্থা করে কর্তৃপক্ষ। এতে ভালো সাড়া পায় তারা। ব্যবহারকারীরা যেমন ফেসবুকে বেশি সময় কাটাতে থাকে তেমনি বিজ্ঞাপনদাতারাও ফেসবুকের ব্যাপারে নতুন করে আগ্রহী হয়ে ওঠে।

যে সাতটি বড় পরিবর্তন আসছে ফেসবুকে

প্রতিদিনই বাড়ছে ফেসবুকের ব্যবহারকারী। সে সঙ্গে বাড়ছে ফেসবুকের পরিসর। প্রতিনিয়ত নতুন কিছু যোগ হচ্ছে ফেসবুকে। ব্যবহারকারীদের আরো ভালো অভিজ্ঞতা দেওয়ার জন্য বেশি সুযোগ দিতে কাজ করে যাচ্ছেন ফেসবুকের প্রকৌশলীরা। ফেসবুকের সহপ্রতিষ্ঠাতা এবং প্রধান নির্বাহী মার্ক জাকারবার্গ প্রতিষ্ঠানটির ডেভেলপার সম্মেলনে এমন সাতটি বড় পরিবর্তনের কথা বলেছেন, যেগুলো অচিরেই হাতে পেতে যাচ্ছেন ব্যবহারকারীরা। সিএনএন মানিতে এ-সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদনে এমন খবর পাওয়া গেল।
১. ৩৬০ ডিগ্রি ভিডিও ইউটিউবে চালু হয়ে গেছে ৩৬০ ডিগ্রি ভিডিও। গুগল ম্যাপের স্ট্রিট ভিউতেও রয়েছে এই প্রযুক্তি। পর্দায় ক্লিক করে বা ড্র্যাগ করে আপনি যেকোনো দিক থেকে এসব ভিডিও দেখতে পারবেন। এ প্রযুক্তি চলে আসবে ফেসবুকেও। কারণ, মানুষ এখন প্রচুর ভিডিও শেয়ার করছে ফেসবুকে।
২. মেসেঞ্জারে কেনাকাটা ফেসবুকে বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে কেনাকাটা তো আছেই, ব্যবহারকারীদের জন্য ব্যাপারটা আরো সহজ করে দিতে চায়। সে কারণেই মেসেঞ্জারকে আপডেট করছে ফেসবুক। টাকা পাঠানোর অপশন চালু হয়ে গেছে। এখন ফেসবুক কাজ করছে ই-কমার্স সাইটগুলোর সঙ্গে মেসেঞ্জারকে সংযুক্ত করতে, যাতে ফেসবুকের মাধ্যমেই অনলাইনে কেনাকাটার কাজটা সারতে পারেন ব্যবহারকারীরা। ৩. অন্য অ্যাপ্লিকেশনের ব্যবহার ফেসবুকের মেসেঞ্জারে অন্য অ্যাপ্লিকেশন ব্যবহার করে মেসেজ পাঠানো যায় না। এ ক্ষেত্রে পরিবর্তন আনতে চায় ফেসবুক কর্তৃপক্ষ। ফেসবুকের মেসেঞ্জার টিমের প্রধান ডেভিড মার্কুস বলেন, ‘মেসেঞ্জারে অন্য অ্যাপ ব্যবহারের সুযোগ করে দিতে চাই।’ এতে ব্যবহারকারীর সংখ্যা আরো বাড়বে বলে আশা করছেন মার্কুস। ৪. ভিডিও শেয়ারিং এখন ফেসবুকেই ভিডিও আপলোড ও শেয়ারের ব্যবস্থা রয়েছে। ফেসবুকে আপলোড করা ভিডিও অন্যান্য সাইটেও শেয়ার করার অপশন চালু হচ্ছে সামনেই। ফলে আর ইউটিউবের মুখাপেক্ষী হয়ে থাকতে হবে না ফেসবুক ব্যবহারকারীদের। ৫. খবর পড়া এবং কমেন্ট ফেসবুক ফিডেই সরাসরি খবর পড়ার অপশন চালু হতে যাচ্ছে। এ বিষয়ে অনেক কাজ এগিয়ে নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। এ ছাড়া কোনো নিউজ সাইটে যদি আপনি কমেন্ট করেন, সেটাও স্বয়ংক্রিয়ভাবে ফেসবুকের ওয়ালে চলে আসবে। অর্থাৎ যাঁরা খবর পড়েন এবং সাংবাদিক, তাঁদেরকে ফেসবুকের ওয়ালেই ধরে রাখতে চাইছে কর্তৃপক্ষ। এ জন্য বাজফিড, এলিট ডেইলি, দ্য হাফিংটন পোস্ট এবং ফক্স স্পোর্টসের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে ফেসবুক। ৬. গ্যাজেট-বান্ধব ফেসবুককে আরো বেশি গ্যাজেট-বান্ধব করে তোলা হচ্ছে। নিত্যনতুন গ্যাজেট পণ্য আসছে বাজারে, যার সবগুলোই ইন্টারনেটের সঙ্গে যুক্ত। যেকোনো গ্যাজেট থেকেই যেন ফেসবুক ব্যবহার করা যায়, সে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন ফেসবুকের ডেভেলপার ও প্রকৌশলীরা। ৭. ব্যবহারকারীদের তথ্য ব্যবহারকারীরা ফেসবুকে কোন অ্যাপটি ব্যবহার করছেন, কতজন ব্যবহার করছেন এমন সব তথ্য পাবেন ফেসবুকের ডেভেলপাররা। ফেসবুক নিয়ে নতুন নতুন অ্যাপ তৈরিতে ব্যস্ত তাঁরা। বাড়ছে এর চাহিদাও। তাই সব ডিভাইসের জন্য উপযুক্ত অ্যাপ্লিকেশন তৈরির কাজে ব্যস্ত এখন ফেসবুক। অচিরেই নতুন নতুন আরো অ্যাপ নিয়ে আসছে সামাজিক যোগাযোগের এই জনপ্রিয় মাধ্যম।
এলানোরা বাইদু থাকেন নিউইয়র্কের ব্রুকলিনে। পেশায় তিনি একজন নার্স। কয়েকদিন ধরে তিনি আলোচনায় রয়েছেন বিশেষ এক কারণে। নিজের সাবেক স্বামীকে ফেসবুকের মাধ্যমে ডিভোর্স নোটিশ পাঠিয়েছেন তিনি। তাঁর এই কর্মকাণ্ডের বৈধতা দিয়েছেন ম্যানহাটন সুপ্রিম কোর্টের বিচারক ম্যাথু কুপার। 
তাহলে কি ফেসবুকের রিলেশনশিপ স্ট্যাটাস ম্যারিড থেকে ডিভোর্স করলেই আইনিভাবে বিচ্ছেদ হয়ে যাবে? এটার উত্তর এক কথায় দেওয়া বেশ মুশকিল। 
  1. ২০০৯ সালে ভিক্টর সেনা ব্লাড-জারকুর সাথে বিয়ে হওয়ার কিছুদিন পরেই আলাদা হয়ে যান বাইদু। এরপর যখন বিচ্ছেদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেন বাইদু তখন স্বামীর সাথে ফোনে, ইমেইলে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেন। কিন্তু ভিক্টরের খোঁজ পাননি। শেষমেশ একজন ভাড়াটে গোয়েন্দা ঠিক করেছিলেন তাঁর স্বামীকে খুঁজে দেওয়ার জন্য। কিন্তু বিধিবাম। কোনোভাবেই স্বামীর কাছে মনের খবরটা পৌঁছে দিতে পারেননি তিনি।  শুধুমাত্র একটা মাধ্যমেই ভিক্টরকে নিয়মিত পাওয়া গেল, সেটা ফেসবুক। সেখানে তিনি নিয়মিত আপডেট থাকতেন। বাইদুর আইনজীবী স্পিনেল তথ্যপ্রযুক্তি-বিষয়ক ওয়েবসাইট ম্যাশেবলকে জানান, ‘ফেসবুকে যখন ভিক্টর নিয়মিতভাবে আছেন, আমরা ভাবলাম এটাই তাঁকে বিচ্ছেদের খবর জানানোর একমাত্র উপায়। আদালতকে সেটা জানানোর পর আদালত আরেকবার তাঁকে খোঁজার চেষ্টা করে দেখতে বললেন।’  কিন্তু ভিক্টরকে আর খুঁজেই পাওয়া গেল না। অবশেষে আদালত নির্দেশ দিলেন ফেসবুকের মাধ্যমেই ভিক্টরকে বিচ্ছেদের কথা জানিয়ে দিতে। সেটাই হবে আইনি বিচ্ছেদ। তবে ফেসবুকের মাধ্যমে বিচ্ছেদের ঘটনা এটাই প্রথম নয়, নাটকীয়তার কারণেই এটি নিয়ে এত আলোচনা হচ্ছে।  গত বছরের সেপ্টেম্বরে স্টেটেন দ্বীপের নোয়েল বিসকো ও তাঁর স্ত্রী আন্না মারিয়া অ্যান্টিগোর মধ্যে ফেসবুকের মাধ্যমে বিচ্ছেদকে বৈধতা দিয়েছিলেন ম্যাজিস্ট্রেট গ্রেগরি গ্লিডম্যান।  সানফ্রান্সিসকো-ভিত্তিক উইন্টার অ্যান্ড রস ল ফার্মের আইনজীবী মিন্ডে লরেন ম্যাশেবলকে জানান, ‘দুটি মামলাতেই বিশেষ পরিস্থিতি বিবেচনায় আদালতকে রায় দিতে হয়েছে। দুই ক্ষেত্রেই বিবাদীপক্ষের সাথে যোগাযোগ করা কোনোভাবেই সম্ভব হচ্ছিল না।’  আরো একটি উল্লেখযোগ্য ব্যাপার হচ্ছে, দুটি ঘটনাই ঘটেছে নিউইয়র্কে। যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রদেশের জন্য পরিস্থিতি অনুযায়ী বিচারকরা তাদের মতো করে সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। ফেসবুকের মাধ্যমে বিচ্ছেদকে অন্যান্য প্রদেশের বিচারকরা বৈধতা দেবেন কি না, সেটা সম্পূর্ণই তাঁদের ইচ্ছার ওপর নির্ভর করে।  

facebook messenger

ইনস্ট্যান্ট মেসেজিং অ্যাপ্লিকেশন দুনিয়ায় ফেসবুক মেসেঞ্জার এক অপ্রতিদ্বন্দ্বী নাম। আইওএস, অ্যান্ড্রয়েডসহ সব অপারেটিং সিস্টেমে জনপ্রিয় এই অ্যাপে প্রতিনিয়ত যোগ হচ্ছে নিত্যনতুন সব সুবিধা। সেই ধারাতেই এবার যুক্ত হচ্ছে ফেসবুক মেসেঞ্জারে গেমস খেলার সুবিধা। অনলাইন পত্রিকা দি ইনফরমেশন জানিয়েছে এ খবর। বর্তমানে বিশ্বব্যাপী ফেসবুক মেসেঞ্জার ব্যবহারকারীর সংখ্যা ৬০ কোটির বেশি। আর এই বিপুলসংখ্যক ব্যবহারকারীর কথা মাথায় রেখে ফেসবুক কর্তৃপক্ষ আরো বেশি নজর দিচ্ছে এই অ্যাপের দিকে। এরই মধ্যে ভিডিও কল, ভয়েস কল, অর্থ লেনদেনের মতো সুবিধা চালু করেছে ফেসবুক। এবার গ্রাহকদের গেমস খেলার সুবিধা দিতে চায় ফেসবুক। ফেসবুক এরই মাঝে বিভিন্ন গেম ডেভেলপার প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আলোচনা অনেকটা এগিয়ে নিয়েছে। একই সঙ্গে সুযোগ থাকছে থার্ড পার্টি ডেভেলপারদের জন্যও। আর তাই নিজের তৈরি গেমটিও অন্তর্ভুক্ত করার সুযোগ থাকছে সেখানে।
তবে গেম খেলার সুযোগ সরাসরি ফেসবুক মেসেঞ্জারেই যুক্ত থাকবে, নাকি অন্য গেমিং প্ল্যাটফর্মের সঙ্গে সংযুক্ত হওয়ার মধ্যবর্তী অ্যাপ হিসেবে এটি ব্যবহৃত হবে, তা খোলাসা করেনি ফেসবুক। কবে নাগাদ এই ফিচার যুক্ত হতে যাচ্ছে মেসেঞ্জারে, সে সম্পর্কে বিস্তারিত জানা না গেলেও সেটি বেশ শিগগিরই আসছে, সে আভাস দিয়েছে ফেসবুক। মেসেঞ্জারকে শুধু একটি মেসেজিং অ্যাপের গণ্ডির মধ্যে বেঁধে রাখতে চায় না ফেসবুক। টেক্সট মেসেজ, ভিডিওকল থেকে গেমস, সবকিছু মিলিয়ে ব্যবহারকারীদের একটি অনন্য অভিজ্ঞতা দিতে চায় ফেসবুক।

বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৫

২১ মেগাপিক্সেল ক্যামেরার মটো এক্স প্লে

স্মার্টফোনের বাজারে মটোরোলার তেমন একটা দাপট না থাকলেও মাঝে মাঝে তারা কিছু ডিভাইস দিয়ে চমকে দেয়। এবার যেমন মটো এক্স প্লে মডেলে তারা যোগ করেছে ২১ মেগাপিক্সেলের রিয়ার ক্যামেরা।
অ্যানড্রয়েড ৫.১.১ ললিপপ অপারেটিংয়ে চলবে মটো এক্স প্লে। এতে রয়েছে ৫.৫ ইঞ্চি ফুল এইচডি (১০৮০x১৯২০ পিক্সেল) ডিসপ্লে। স্ক্রিনের সুরক্ষার জন্য রয়েছে কর্নিং গরিলা গ্লাস। স্মার্টফোনটি চলবে ১.৭ গিগাহার্জ কোয়ালকম স্ন্যাপড্রাগন ৬১৫ অক্টা-কোর প্রসেসরে। যার সাথে থাকছে আদ্রেনো ৪০৫ জিপিইউ এবং ২ জিবি র‍্যাম।
এর ২০ মেগাপিক্সেলের রিয়ার ক্যামেরায় রয়েছে এফ/২.০ অ্যাপার্চার এবং সিসিটি (কালার কোরিলেটেড টেম্পারেচার) ফ্ল্যাশ। আরো আছে ডুয়েল এলইডি মডিউল। রিয়ার ক্যামেরায় রয়েছে ফেজ ডিটেক্ট অটো ফোকাস (পিডিএএফ)। এ ছাড়া ১০৮০ পিক্সেলের এইচডি ভিডিও রেকর্ড করা যাবে এর মাধ্যমে। আরো রয়েছে ভিডিও স্ট্যাবিলাইজেশন, ফোর এক্স ডিজিটাল জুম, বার্স্ট মোড, নাইট মোড, অটো এইচডিআর, প্যানারোমা। সেলফি তোলার জন্য রয়েছে ৫ মেগাপিক্সেলের ফ্রন্ট ক্যামেরা। এনডিটিভি জানিয়েছে, ভারতের বাজারে ১৬ জিবি মেমোরির এই ফোনের দাম রাখা হয়েছে ১৮ হাজার ৫০০ রুপি আর ৩২ জিবি মেমোরির ফোনের দাম রাখা হয়েছে ২০ হাজার রুপি। ডুয়েল সিমের এই স্মার্টফোনটিতে ন্যানো সিম কার্ড ব্যবহার করা যাবে। সাদা এবং কালো এই দুই রঙে পাওয়া যাবে স্মার্টফোনটি। এতে রয়েছে ৩৬৩০ এমএএইচের ব্যাটারি।

বাজারে এল নতুন ফোন হ্যালিও এস ১

দেশের বাজারে সম্প্রতি এডিসন গ্রুপ নিয়ে এসেছে অ্যানড্রয়েড অপারেটিংয়ে চালিত নতুন স্মার্টফোন ব্র্যান্ড ‘হ্যালিও এস ১’। বাংলাদেশে স্মার্টফোনের র ক্রমবর্ধমান চাহিদা মেটাতে এডিসন গ্রুপের এই পদক্ষেপ। বাজারে আসার আগে থেকেই এডিসন গ্রুপ এই হ্যান্ডসেটটি নিয়ে প্রচারণা চালানো শুরু করে। কানেক্টিভিটির জন্য প্রিমিয়াম ক্যাটাগরির এই হ্যান্ডসেটটিতে রয়েছে ফোর জি প্রযুক্তি।
বর্তমানে শুধু সাদা রংয়ে পাওয়া যাচ্ছে স্মার্টফোনটি। এই হ্যান্ডসেটটির দাম ধরা হয়েছে মাত্র ১৭,৯৯০ টাকা।

দীপিকার আসল বডিগার্ড রণবীর সিং

সম্পর্ক নিয়ে বিরাট-আনুশকার মতো সোজাসাপ্টা ঘোষণা দেননি তাঁরা। তবে লুকিয়ে-চুকিয়ে প্রেম করছেন না রণবীর সিং ও দীপিকা পাড়ুকোন। স্বভাবসুলভ বোহেমিয়ান রণবীর মাঝেমধ্যেই পারলে এ নিয়ে ঘোষণা যেন দিয়েই ফেলেন। যেমন করেছেন কয়েক দিন আগে, মিসমালিনীর খবর সেদিকেই সবার নজর কেড়েছে। দীপিকার জন্য নিজের ‘ডেডিকেশন’ দেখাতে এতটুকুও কার্পণ্য করেননি রণবীর!
  • ‘বাজিরাও মাস্তানি’ নিয়ে খুবই ব্যস্ত সময় কেটেছে দুজনের। একে সঞ্জয় লীলা বনসালির ছবি, তার ওপরে নামভূমিকায় অভিনয়! ছবির কাজ শেষে এখন চলছে প্রচারণা পর্ব। পুনেতে একটি প্রচারণা অনুষ্ঠানে গিয়েছিলেন দুজনে। সেখানে ভক্তদের উপচেপড়া ভিড় থাকবে, এমনটাই স্বাভাবিক। হয়েছেও সেটাই। আর সেখান থেকে দীপিকাকে রক্ষা করার জন্য রীতিমতো খাঁটি বডিগার্ডের মতো ভূমিকা পালন করেছেন রণবীর। একেবারে আগলে নিয়ে তাঁকে আলাদা করেছেন হট্টগোল থেকে। শুধু তা-ই নয়, সে সময়কার ছবি পরে টুইটারেও আপলোড করেছেন রণবীর। সঙ্গে দিয়েছেন ঘোষণা, ‘দেখুন, রণবীর দীপিকাকে কীভাবে পাহারা দিচ্ছে, প্রমাণ দিচ্ছে (রণবীর) যে সে দীপিকাকে কখনোই ছেড়ে যাবে না এবং সব সময়ই তাঁর পাশাপাশি থাকবে, শেষ পর্যন্ত।’

বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর, ২০১৫

অ্যাপলের নতুন যা কিছু

বুধবার রাতে সানফ্রান্সিসকোর বিল গ্রাহাম সিভিক অডিটরিয়ামে হয়ে গেল অ্যাপলের জমকালো ইভেন্ট। আর এই ইভেন্টেই উন্মুক্ত করা হয়েছে অ্যাপলের নতুন সব পণ্যের। এর মধ্যে রয়েছে আইফোন, আইপ্যাড, অ্যাপল টিভি ও অ্যাপল ওয়াচ। সব পণ্যেই যোগ করা হয়েছে নতুন সব প্রযুক্তি। ম্যাশেবল-এর প্রতিবেদন থেকে বিস্তারিত তুলে ধরা হলো :

বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৫

মোবাইল ফোনে ২০০ জিবির এসডি কার্ড!

৩২ জিবি মাইক্রো এসডি কার্ডও এখন ব্যবহারকারীদের প্রত্যাশা ঠিকমতো মেটাতে পারছে না। দিন দিন মানুষের তথ্য-যোগাযোগ এবং বিনোদনের চাহিদা বাড়ছে। আর সেই চাপ পড়ছে মোবাইলের ওপর। মোবাইল ফোনের ওপর নির্ভরশীলতা বাড়তে থাকায় মেমোরি কার্ড নির্মাতা প্রতিষ্ঠান স্যানডিস্ক নিয়ে এসেছে ২০০ জিবি ধারণক্ষমতাসম্পন্ন মাইক্রো এসডি কার্ড। আর এই কার্ডের আকৃতি মানুষের নখের সমান!
গতকাল (সোমবার, ২ মার্চ-২০১৫) থেকে স্পেনের বার্সেলোনায় শুরু হয়েছে মোবাইল ওয়ার্ল্ড কংগ্রেস, আর সেখানেই এই মেমোরি কার্ড প্রদর্শন করেছে স্যানডিস্ক। এটাই পৃথিবীর প্রথম ২০০ জিবি মেমোরি কার্ড।
মাত্র এক বছর আগেই প্রথম ১২৮ জিবি ক্ষমতাসম্পন্ন মেমোরি কার্ড বাজারে ছেড়ে হৈচৈ ফেলে দিয়েছিল স্যানডিস্ক। এবার তার থেকে ৫৬ শতাংশ বেশি ধারণক্ষমতার কার্ড বাজারে ছাড়ল প্রতিষ্ঠানটি।
এখন পর্যন্ত ২০০ জিবি কার্ডটিই পৃথিবীর সর্বোচ্চ ধারণক্ষমতাসম্পন্ন মেমোরি কার্ড, যাতে টানা ২০ ঘণ্টার এইচডি ভিডিও (১০৮০ পিক্সেল) রেকর্ড করা যাবে। এক হাজার ২০০ ছবি কপি করতে সময় লাগবে মাত্র এক মিনিট। প্রতি সেকেন্ডে ৯০ মেগাবাইট গতিতে ফাইল ট্রান্সফার করতে পারবে কার্ডটি। এ কার্ডের দাম ধরা হয়েছে ৪০০ ডলার।

এ বছরই আসছে উইন্ডোজ টেন

মাইক্রোসফটের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা এলো- এ বছরই বাজারে ছাড়া হবে উইন্ডোজের নতুন সংস্করণ উইন্ডোজ টেন। ১৯০টি দেশে এবং ১১১টি ভাষায় মুক্তি পাবে উইন্ডোজ টেন। টেক ক্রাঞ্চের এক প্রতিবেদনে এ খবর জানানো হয়েছে।
এর আগে উইন্ডোজ সেভেন ব্যবহারকারীদের বিনা মূল্যে  উইন্ডোজ টেন আপগ্রেড দেওয়ার কথা জানিয়েছিল মাইক্রোসফট। বিশেষ করে চীনে,  যেখানে পাইরেটেড সফটওয়্যারের চল বেশি।
চীনের শেনজেনে একটি ইভেন্টে মাইক্রোসফটের এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট টেরি মিয়েরসন জানান, সফটওয়্যার পাইরেসি ঠেকাতে চীনের তিনটি বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের সাথে মিলে কাজ করবেন তাঁরা। লেনোভো, টেনসেন্ট এবং কিউইহু থ্রি সিক্সটি। এসব প্রতিষ্ঠান তাদের ক্রেতাদের বিনা মূল্যে উইন্ডোজ টেন আপগ্রেড করে দেবে।
একইসাথে স্মার্টফোন নির্মাতা প্রতিষ্ঠান জায়োমির সাথেও কাজ করবে মাইক্রোসফট। অ্যানড্রয়েড অপারেটিংয়ের সেট তৈরি করলেও ক্রেতাদের পরীক্ষামূলকভাবে স্মার্টফোনে উইন্ডোজ টেন ব্যবহার করার সুযোগ দেবে জায়োমি।

চোখের রোগ ধরতে অ্যাপ্লিকেশন

গবেষকরা এবার তৈরি করেছেন এমন এক অ্যাপ, যা খুঁজে বের করতে পারবে ডায়াবেটিক ম্যাকুলার এডিমার মতো চোখের রোগ। সম্প্রতি মেক্সিকোতে চোখের রেটিনার জন্য গঠিত একটি মেডিকেল ও সার্জিক্যাল দল এই অ্যাপ তৈরি করেছে। অ্যাপ তৈরিতে তারা ব্যবহার করেছে মোবাইল ফোনের ক্যামেরা, যা কি না চোখের রেটিনার যেকোনো ধরনের অস্বাভাবিকতা নিরূপণ করতে সক্ষম। এ খবর জানিয়েছে তথ্যপ্রযুক্তিবিষয়ক ওয়েবসাইট বিজিআর।
অ্যাপটি তৈরি করা হয়েছে মূলত সাধারণ চিকিৎসকদের জন্য, যাতে রোগীর চোখে যেকোনো ধরনের সমস্যা তাঁদের চোখে পড়লেই তাঁরা রোগীকে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের কাছে পাঠাতে পারেন। অ্যাপ তৈরিকারী মেডিকেল দলটির পরিচালক কার্লোস আলতামিরানো ভ্যালেহো বলেন, ‘অ্যাপটি তৈরি করা হয়েছে শুধু সাধারণ চিকিৎসার সময় ব্যবহারের জন্য। কখনোই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের প্রয়োজনীয়তা পূরণ করা এই অ্যাপের পক্ষে সম্ভব নয়। তবে অ্যাপটি যেকোনো চোখের রোগকে প্রাথমিক অবস্থাতেই ধরা পড়তে সাহায্য করবে।’
ভ্যালেহ জানান, ‘এই অ্যাপ থেকে জানা যাবে, কার চোখ ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় আছে এবং কাকে দ্রুত সময়ের মধ্যে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।’
আশা করা হচ্ছে, যেসব অনুন্নত এবং গ্রামীণ অঞ্চলে চোখের চিকিৎসা ঠিকমতো নেই, সেসব জায়গায় এই অ্যাপ সাধারণ মানুষের কাজে লাগবে।
এ ছাড়া চোখের চিকিৎসার ব্যয় কমিয়ে আনতে অ্যাপটি সাহায্য করবে। সাধারণত রোগীরা সংক্রমিত হওয়ার বেশ কয়েক দিন পরে গিয়ে তাঁদের চোখের গুরুতর রোগের ব্যাপারে জ্ঞাত হন। কিন্তু অ্যাপটি এবার প্রাথমিক অবস্থাতেই সব রোগ ধরে ফেলবে, তাই তা অল্পতেই সারিয়ে তোলা যাবে।
এ ছাড়া ডায়াবেটিক রোগী, যাঁরা বিভিন্ন ধরনের চোখের সমস্যার সম্মুখীন হন, তাঁরাও উপকৃত হবেন এই অ্যাপের মাধ্যমে।
অ্যাপটি তৈরিতে আরো সাহায্য করেছে স্পেনভিত্তিক মনটেরি ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি অ্যান্ড হায়ার এডুকেশনের (আইটিইএসএম) একদল বায়োমেডিকেল ইঞ্জিনিয়ার। ধারণা করা হচ্ছে, কয়েক দিনের মধ্যেই অ্যাপটি বাজারে ছাড়া হবে।

ইউসির ব্যবহারকারী ছয় মাসে বেড়েছে ৬৫%

বাংলাদেশে উল্লেখযোগ্য হারে ইউসি (UC) ব্রাউজার ব্যবহারকারীর সংখ্যা বেড়েছে। ২০১৫ সালের প্রথম ছয় মাসে অন্যতম শীর্ষ এই মোবাইল ব্রাউজারের ব্যবহারকারী বেড়েছে ৬৫ শতাংশ। আন্তর্জাতিক পরিসংখ্যান ব্যবস্থা স্টার্টকাউন্টার অনুযায়ী বাংলাদেশে এর ব্যবহারকারী বৃদ্ধির এই ঊর্ধ্বগতির হিসাব পাওয়া গেছে।

অভিজ্ঞতার আলোকে ব্যবহারকারীদের সেবাদান সহজ এবং তাৎক্ষণিক তথ্য সরবরাহ—এ সবকিছুর সাবলীল উপস্থাপনের মধ্য দিয়ে গত বছরের শেষ দিকে বাংলাদেশে যাত্রা শুরু করে ইউসি ব্রাউজার। ইউসি ক্রিকেট—সারা দেশে লাখো ভক্তের কাছে পৌঁছে দিচ্ছে দ্রুত এবং সুবিধামতো লাইভ স্কোর, প্রাক-দর্শন, সাক্ষাৎকার, টেক্সট সম্প্রচার, পরিসংখ্যান এবং ছবি, ভিডিওচিত্রসহ সম্পূর্ণ ও সর্বশেষ তথ্য।

গুগলের প্লে স্টোরে বাংলাদেশের ব্যবহারকারীদের পছন্দের শীর্ষে থাকা ১৫টি অ্যাপের মধ্যে আছে ইউসি ব্রাউজার।

UCWeb ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস বিভাগের পরিচালক মিস্টার কেনি বলেন, আইসিসি বিশ্বকাপ, চলমান ওয়ানডে সিরিজসহ ক্রিকেট সিজনের সময় দেখা গেছে, ইউসি ব্রাউজার ট্রাফিক অনেক বেড়ে যায়। তিনি আরো বলেন, ‘আমরা আনন্দিত যে, বাংলা ক্রিকেট-ভক্তদের সুবিধা দিতে সক্ষম হয়েছি এবং ব্যবহারকারীরা তা পছন্দ করেছে।’

ক্রিকেটের সবকিছু এক প্ল্যাটফর্মে

ইউসি ব্রাউজারের হোমপেজ থেকে মাত্র একটি ক্লিকেই ‘ইউসি ক্রিকেটে’ যাওয়া সম্ভব। এটি একটি ওয়ান স্টপ ক্রিকেট তথ্যকেন্দ্র। একজন ক্রিকেটপ্রেমীর প্রয়োজনীয় সবকিছুই এখানে একসঙ্গে রাখা হয়েছে, যার মধ্যে আছে লাইভ স্কোর, প্রিভিউ, সাক্ষাৎকার, টেক্সট সম্প্রচার, পরিসংখ্যান, ছবি ও ভিডিওচিত্র। এ ছাড়া এই ব্রাউজারে ক্রিকেট-ভক্তদের সংযুক্ত থাকার জন্য বাড়তি কিছু জিনিসও রাখা হয়েছে। ক্রিকেটপ্রেমীরা ক্রিকেট অনিশ্চয়তার খেলায় অংশ নিয়ে জিতে নিতে পারেন অনেক পুরস্কার।
ইউসিওয়েব

ইউসিওয়েব একটি মোবাইল ইন্টারনেট সফটওয়্যার ও এই সংশ্লিষ্ট সেবার একটি শীর্ষ প্রতিষ্ঠান। ২০০৪ সালে এর যাত্রা শুরু। সব মূলধারার অপারেটিং সিস্টেমের সঙ্গে এটি সামঞ্জস্যপূর্ণ। বিশ্বের ১৫০টির বেশি দেশে ও অঞ্চলে ব্যবহারকারীদের চাহিদা মেটায় ইউসি। ইউসি ব্রাউজার এখন ইংরেজি, রাশিয়ান, ইন্দোনেশিয়ান, ভিয়েতনামিসহ ১১টি ভাষায় পাওয়া যায়। ইউসিওয়েব আলিবাবা গ্রুপের একটি অঙ্গ প্রতিষ্ঠান।

আইফোনের সঙ্গে আসছে আইপ্যাড প্রো

ধারণা করা হচ্ছে, ৯ সেপ্টেম্বরের সম্মেলনটি অ্যাপলের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ইভেন্ট হতে যাচ্ছে। কারণ, সানফ্রান্সিসকোর বিল গ্রাহাম সিভিক অডিটরিয়ামের মতো বিশাল সম্মেলন কক্ষে এর আগে কখনো এ ধরনের অনুষ্ঠান করেনি অ্যাপল।
তাই এই ইভেন্টকে কেন্দ্র করে বাতাসের বেগে গুজবও ছোটাছুটি করছে। আগেই নিশ্চিত হওয়া গিয়েছিল যে নতুন দুটি আইফোনের ঘোষণা আসবে। এর পর অ্যাপল টিভি সেটবক্স আর নতুন রিস্ট ব্যান্ডের কথাও শোনা গিয়েছিল। তবে সবকিছুকে ছাপিয়ে অ্যাপলের পণ্যভিত্তিক ওয়েবসাইট ‘নাইন টু ফাইভ ম্যাক’ দাবি করছে, ৯ সেপ্টেম্বরের ওই সম্মেলনে আইপ্যাড প্রো এবং আইপ্যাড মিনির নতুন ভার্সনের ঘোষণা আসবে।
প্রযুক্তিবিষয়ক ওয়েবসাইট দ্য ভার্জ জানিয়েছে, আগামী সপ্তাহে ঘোষণা এলেও বাজারে আইপ্যাড প্রো আসবে নভেম্বরে। এর আগে অক্টোবরে একটি প্রি-অর্ডার সেশনও চলবে। অন্যদিকে নাইন টু ম্যাক জানায়, নতুন এই প্যাড বর্তমান মডেলের থেকে আকারে বেশ বড় হবে। এ ছাড়া স্পেসিফিকেশনেও থাকবে লক্ষণীয় উন্নতি। এতে থাকবে ফোর্সটাচভিত্তিক স্টাইলাস। আর সিরি এবং নোটিফিকেশন সেন্টার কাজ করবে আরো নিখুঁতভাবে।
গুজব রয়েছে, আইপ্যাডের একটি এন্টারপ্রাইজ-রেডি ভার্সন আসতে পারে। বিশ্বের অন্যতম এই টেক-জায়ান্টের সঙ্গে সিসকো এবং আইবিএমের মতো এন্টারপ্রাইজগুলোর গড়ে ওঠা সাম্প্রতিক সম্পর্ক থেকেই এ গুজবের জন্ম। যদিও অ্যাপল এ ব্যাপারে এখন পর্যন্ত মুখ খোলেনি।

তুরস্কে উচ্চশিক্ষায় বৃত্তি

এশিয়া ও ইউরোপ মহাদেশের মিলনস্থলে তুরস্কের অবস্থান, যা কামাল আতাতুর্ক কিংবা এরদোয়ানের দেশ হিসেবে পরিচিত। উভয় মহাদেশের মাঝখানে অবস্থান হওয়ায় সেই প্রাগৈতিহাসিক থেকে শুরু করে বর্তমানেও ভৌগোলিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করে আছে দেশটি। গত ১৫-১৬ বছরে শিক্ষা খাতে ব্যাপক আধুনিকায়নের পরিপ্রেক্ষিতে প্রতিবছর উচ্চশিক্ষার জন্য বিশ্বের প্রায় ১৬০টি দেশের বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী পাড়ি জামায় এশিয়া-ইউরোপের এই দেশটিতে।
বর্তমানে তুরস্কের শিক্ষাব্যবস্থা বিশ্বের উন্নত অনেক দেশের শিক্ষাব্যবস্থার সমমানের স্বীকৃত। ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত অনেক দেশের তুলনায়ও তুরস্কের উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থা অনেক উন্নত। বিশেষ করে মেডিকেল ও ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয়গুলোতে তুরস্কের শিক্ষাব্যবস্থা খুবই মানসম্মত। এ ছাড়া দেশটি এশিয়া-ইউরোপের সংযোগস্থল হওয়ায় আন্তর্জাতিক সম্পর্ক, লোকপ্রশাসন কিংবা রাষ্ট্রবিজ্ঞানসহ সামাজিক বিজ্ঞানের অন্যান্য বিষয়ের বেশ গুরুত্ব রয়েছে। তা ছাড়া ইতিহাসে প্রাচীন সেন্ট্রাল-আনাতোলিয়া কিংবা কনস্টোন্টিনোপেল হিসেবে খ্যাত এই দেশটিতে সাধারণ ইতিহাস, ইসলামের ইতিহাস এবং প্রত্নতত্ত্ব বিষয়গুলোর বাস্তবিক ও সমৃদ্ধ শিক্ষাব্যবস্থা রয়েছে। তুরস্কের সব বিশ্ববিদ্যালয় ইউরোপীয় ইউনিয়নের অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় শিক্ষার্থীরা ইরাসমাস মুন্ডুসের আওতায় ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত বিভিন্ন দেশের বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নের সুযোগ পায়।
বাংলাদেশি কিংবা বিদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য তুরস্কে দুভাবে পড়ার সুযোগ রয়েছে। প্রথমত, বৃত্তির আওতায়; দ্বিতীয়ত, নিজ খরচে। তুরস্ক সরকার প্রতিবছর পাঁচ হাজারের বেশি বিদেশি শিক্ষার্থীকে বৃত্তি দিয়ে থাকে। এ ছাড়া বিভিন্ন সামাজিক ও সেবামূলক সংস্থা বিভিন্ন দেশের শিক্ষার্থীদের বৃত্তিসহ তুরস্কে পড়ার সুযোগ করে দেয়। বিভিন্ন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় পূর্ণ বা আংশিক বৃত্তি দিয়ে থাকে।
তুরস্ক সরকারের বৃত্তি পৃথিবীর সব দেশের শিক্ষার্থীদের জন্য উন্মুক্ত। বিশেষ করে আমাদের বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য এ বৃত্তি অন্যান্য দেশের বৃত্তির চেয়ে অনেক সহজতর এবং সুযোগ-সুবিধার দিক থেকেও অনেক ভালো। তুরস্ক সরকার বিভিন্ন স্তরে ৬০-৭০ বাংলাদেশি শিক্ষার্থীকে বৃত্তি দিয়ে থাকে। তা ছাড়া প্রতিবছরই বৃত্তির সংখ্যা বৃদ্ধি করা হচ্ছে। ফেব্রুয়ারি-এপ্রিল মাসে অনলাইনে বৃত্তির অবেদন করতে হয়। আবেদন করার এক মাসের মধ্যে প্রাথমিকভাবে নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের মৌখিক পরীক্ষার জন্য ঢাকার তুরস্ক দূতাবাসে ডাকা হয়। মৌখিক পরীক্ষায় এক থেকে দুই মাসের মধ্যে চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের ই-মেইল করা হয়। নির্বাচন প্রক্রিয়াটি পুরোপুরি তুরস্ক দূতাবাস পরিচালনা করে, যেখানে বাংলাদেশ সরকারের কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ নেই।
বৃত্তির কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অবেদন করার জন্য বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়। যেমন :
১.      অনার্স, মাস্টার্স এবং পিএইচডি।
২.      উচ্চতর গবেষণা প্রোগ্রাম। এ বছর থেকে শুরু হয়েছে।
৩.      খেলাধুলা এবং সংস্কৃতিতে এ বছর থেকে শুরু হয়েছে।
৪.      মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের জন্য নবম শ্রেণি থেকে বৃত্তি।
সুযোগ-সুবিধা :
তুরস্ক সরকারের বৃত্তিতে নিম্নোক্ত সুযোগ-সুবিধা রয়েছে :
১.      টিউশন ফিসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের যাবতীয় খরচ।
২.      থাকা-খাওয়া সরকারি ডরমিটরিতে, যা সম্পূর্ণ ফ্রি।
৩.      ফ্রি স্বাস্থ্য বিমা তথা বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা।
৪.      এক বছরের তুর্কি ভাষা শিক্ষা কোর্স সম্পূর্ণ ফ্রি।
৫.      মাসিক ভাতা ( অনার্স ২৫০ ডলার, মার্স্টাস ৩৬০ ডলার এবং পিএইচডি ৫০০ ডলার, উচ্চতর গবেষণার জন্য ১০০০ ডলার)
৬.      যাওয়া-আসার ফ্রি বিমান টিকেট।
৭.      পার্টটাইম চাকরি করার সুযোগ। এ বছর থেকে শুরু হয়েছে।
আবেদনের যোগ্যতা :
       অনার্স আবেদনের সর্বোচ্চ বয়স ২১ বছর, মাস্টার্সের জন্য সর্বোচ্চ ৩০ বছর, পিএইচডির জন্য সর্বোচ্চ ৩৫ বছর।
       তুরস্কের কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত থাকা যাবে না।
       ইংরেজি মাধ্যমে পড়তে চাইলে (IELTS, TOFEL, GRE, GMAT) লাগবে। সাধারণত তুরস্কের সব বিশ্ববিদ্যালয়ে তুর্কি ভাষায় শিক্ষা দেওয়া হয়।
       এই বৃত্তির জন্য প্রাথমিকভাবে দুটি যোগ্যতার ওপর ভিত্তি করে শিক্ষার্থীদের নির্বাচন করা হয়।
প্রথমত, একাডেমিক রেজাল্ট। অর্থাৎ অনার্সের জন্য এসএসসি/সমমান এবং এইচএসসি/সমমান পরীক্ষায় ৭০% নম্বর (তবে মেডিকেলের জন্য ৯০% নম্বর) এবং মাস্টার্স-পিএইচডির জন্য অনার্স ও মাস্টার্সে ৭৫% নম্বর থাকতে হবে।
দ্বিতীয়ত, এক্সট্রা কারিকুলাম অ্যাক্টিভিটিস। অর্থাৎ কোনো সামাজিক, সাংস্কৃতিক, অর্থনৈতিক, একাডেমিকসহ বিভিন্ন জাতীয়-আন্তর্জাতিক সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত থাকা, অর্থাৎ এ ক্ষেত্রে সম্পৃক্ততা গুরুত্বপূর্ণ। এ ছাড়া বিভিন্ন জাতীয়-আন্তর্জাতিক সিম্পোজিয়াম-সেমিনারে ওয়ার্কশপ বা অংশগ্রহণ করে থাকলে তা আবেদনের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
আবেদন করতে যা লাগবে :
       পাসপোর্ট/জাতীয় আইডি কার্ড/জন্মনিবন্ধন সনদের (ইংরেজিতে অনুবাদ করা) স্ক্যান কপি।
       সাম্প্রতিক তোলা পাসপোর্ট সাইজের ছবি।
       সব একাডেমিক সার্টিফিকেট।
       সব একাডেমিক মার্কশিট।
       দুটি রেফারেন্স লেটার। এ ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভাগীয় চেয়ারম্যান এবং অধ্যাপক হলে ভালো হয়।
       এক্সট্রা কারিকুলার অ্যাক্টিভিটিসের সব সার্টিফিকেট।
       পাবলিকেশন থাকলে উল্লেখ করা।

ওপরের সব ডকুমেন্ট স্ক্যান কপি করে রেডি রাখতে হবে।
বৃত্তির আবেদন করার সময় বিশ্ববিদ্যালয় এবং সাবজেক্ট বাছাই করতে হয়। এ ক্ষেত্রে যাঁদের রেজাল্ট ভালো এবং ওপরে উল্লেখিত সব যোগ্যতা রয়েছে, তাঁরা তুরস্কের ভালো বিশ্ববিদ্যালয়গুলো চয়েজ করতে পারেন। আর যাঁরা যোগ্যতার দিক থেকে একটু দুর্বল, তাঁরা অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয় বাছাই করে দিলে বৃত্তি পাওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
তুরস্কে জুন, জুলাই ও আগস্ট—এ তিন মাস গ্রীষ্মের বন্ধ থাকে। আর প্রতিবছর একাডেমিক সেশন শুরু হয় সেপ্টেম্বরে। অর্থাৎ প্রতিবছর আপনি তিন মাস ছুটি পাচ্ছেন। যেখানে ফুলটাইম কাজ করার সুযোগ রয়েছে।
এ ছাড়া গবেষণাভিত্তিক, বিশেষ করে ‘বিজ্ঞান’ এবং ‘টেকনোলজি’র বিভিন্ন বিষয়ের ওপর গবেষণার জন্য (মাস্টার্স এবং পিএইচডি) তুর্কি সরকারের অর্থায়নে আরো একটি বৃত্তি রয়েছে, যা টুবিটাক স্কলারশিপ নামে পরিচিত। এটি বছরে দুবার বিজ্ঞপ্তি দিয়ে থাকে। ফেব্রুয়ারি-মার্চ এবং সেপ্টেম্বর-অক্টোবর এ বৃত্তির বিজ্ঞপ্তি দিয়ে থাকে। শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে আবেদন গ্রহণ ও যাচাই-বাছাই শেষে নির্বাচিতদের তালিকা প্রকাশ করে থাকে। নির্বাচিত শিক্ষার্থীরা এক বছরের মধ্যে তুরস্কের কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপকদের থেকে অফার লেটার নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি হলে বৃত্তি কার্যকর হবে। এই বৃত্তিতে মাসিক সম্মানী তুরস্কের অন্যান্য বৃত্তির চেয়ে অনেক বেশি। মাস্টার্সের জন্য প্রায় ৬০০ ডলার এবং পিএইচডির জন্য ৭০০ ডলার। তবে অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা তেমন নেই। সুবিধা হচ্ছে দুই বছরের মধ্যে মাস্টার্সে ভালো রেজাল্ট করার পর পিএইচডি করার সুযোগ থাকে। মাস্টার্স দুই বছর এবং পিএইচডি চার বছরের মধ্যে শেষ করতে হবে। এই বৃত্তিতে সাধারণত বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও গবেষকদের অগ্রাধিকার দেওয়া হয়।
এ ছাড়া তুরস্কের মাদ্রাসাগুলোতে বাংলাদেশের মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ সুযোগ-সুবিধা রয়েছে। অর্থাৎ তুরস্কের মাদ্রাসাগুলোতে নবম শ্রেণি থেকে বৃত্তির ব্যবস্থা রয়েছে। এ ক্ষেত্রে জেডেসিতে ভালো রেজাল্ট থাকতে হবে। থাকা-খাওয়া ফ্রি এবং হাতখরচের জন্য তিন থেকে চার হাজার টাকা দেওয়া হয়। মাদ্রাসায় চার বছরের কোর্স (নবম-দ্বাদশ শ্রেণি) শেষ করে ভালো রেজাল্ট করতে পারলে তুরস্কে যেকোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে ধারাবাহিকভাবে অনার্স, মাস্টার্স ও পিএইচডি বৃত্তির সুযোগ থাকে।
তুরস্ক সরকারের বৃত্তি ছাড়াও তুরস্কের বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন ‘অনুষদ’ কিংবা ‘বিভাগ’ থেকে বিভিন্ন সময়ে বৃত্তির ঘোষণা দেওয়া হয়। এই বৃত্তিগুলো সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের ওপর নির্ভরশীল। এ ক্ষেত্রে শিক্ষকদের সঙ্গে আলোচনা সাপেক্ষে বৃত্তি পাওয়া যেতে পারে।
তুরস্কের প্রথম সারির কিছু বিশ্ববিদ্যালয়
তুরস্কের সব বিশ্ববিদ্যালয়ই মানসম্মত। তবে এর মধ্যে কয়েকটি সেরা বিশ্ববিদ্যালয় হচ্ছে :
       মিডল ইস্ট টেকনিক্যাল ইউনিভার্সিটি, আঙ্কারা।
       বোয়াজিসি ইউনিভার্সিটি, ইস্তাম্বুল।
       ইস্তাম্বুল টেকনিক্যাল ইউনিভার্সিটি, ইস্তাম্বুল।
       আঙ্কারা ইউনিভার্সিটি, আঙ্কারা।
       গাজি ইউনিভার্সিটি, আঙ্কারা।
       মারমারা ইউনিভার্সিটি, ইস্তাম্বুল।
       ইস্তাম্বুল ইউনিভার্সিটি।
       আনাদোলু ইউনিভার্সিটি, এস্কিশেহের।
       হাজিতেপে ইউনিভার্সিটি, আঙ্কারা।
       এগে ইউনিভার্সিটি, ইজমির।
       ডোকুজ এইলুল ইউনিভার্সিটি, ইজমির।

sunny leone

সানি লিওনের বিজ্ঞাপনের কারণে ভারতে ধর্ষণের প্রবণতা বাড়বে বলে মন্তব্য করেছেন সিপিআই নেতা অতুল কুমার অঞ্জন। এক সমাবেশে অতুল বলেন, ‘কনডমের বিজ্ঞাপনে সানি লিওনকে যেভাবে উপস্থাপন করা হয়, তাতে মানুষের সংবেদনশীলতা নষ্ট হয় এবং যৌন উত্তেজনা বৃদ্ধি পায়। এ ধরনের বিজ্ঞাপন টিভিতে দেখানো হলে ধর্ষণের প্রবণতা আরো বাড়বে। কখনোই তা নিয়ন্ত্রণ করা যাবে না।’
গত মঙ্গলবার উত্তরপ্রদেশের গাজীপুর জেলার এক সমাবেশে এ মন্তব্য করেন অতুল। কমিউনিস্ট পার্টি অব ইন্ডিয়া (সিপিআই)-এর একজন প্রবীণ নেতা তিনি। এ খবর জানিয়েছে এনডিটিভি অনলাইন এবং হিন্দুস্তান টাইমস।
সমাবেশে অতুল আরো বলেন, ‘এখন সানি লিওনের একটা বিজ্ঞাপন টিভিতে দেখানো হচ্ছে। আপনারা কি সেটা দেখেছেন? যেখানে সানি লিওন শুয়ে থাকে এবং একজন পুরুষ তার দিকে এগিয়ে আসে। সকালে, রাতে সব সময়ই এই বিজ্ঞাপন টিভিতে দেখানো হচ্ছে। কনডমের এই বিজ্ঞাপনটি একই সাথে নোংরা এবং ভয়ংকর। এ ধরনের বিজ্ঞাপন মানুষের সংবেদনশীলতা নষ্ট করে যৌন উত্তেজনা বৃদ্ধি করে। কনডমের এই ধরনের উত্তেজক বিজ্ঞাপন যদি দেশের টিভি চ্যানেলগুলোতে দেখানো হয় এবং পত্রিকায় ছাপা হতে থাকে, তাহলে ধর্ষণের মতো ঘটনা বাড়তেই থাকবে। এটা কখনো থামানো সম্ভব হবে না।’
বিজ্ঞাপন নয়, মূলত সাবেক পর্নোতারকা সানি লিওনকে উদ্দেশ্য করেই নানা মন্তব্য করেন অতুল। তিনি বলেন, ‘টিভি খুললেই এখন সানি লিওন নামের এক মহিলাকে আপনারা দেখতে পান। নগ্ন ছবির নায়িকা ছিলেন তিনি। ভারতে তাঁকে নিয়ে এসেছেন মহেশ ভাট। তাঁর ছবির মাধ্যমেই বলিউডে যাত্রা শুরু তার। গত পাঁচ বছর ধরে সে ভারতে রয়েছে, এখন সে হিন্দি ছবির নায়িকা।’
সানি লিওনের বিভিন্ন ছবির প্রসঙ্গে অতুল বলেন, ‘আমি এ ধরনের নোংরা ছবি নিয়ে আজকের সমাবেশে কথা বলতে চাই না। এখানে আমাদের মা-বোনেরা রয়েছেন। আমি এখন পর্যন্ত সানি লিওনের কোনো ছবিই দেখিনি। একটা ছবি দেখতে শুরু করেছিলাম। দুই মিনিট দেখার পরেই বমি করে দিয়েছি। এ ধরনের ছবিতে তারা সবই দেখাচ্ছে এবং সারা দেশে তা বিক্রি করছে।’
সাবেক পর্নোতারকা সানি লিওন ২০১২ সালে পূজা ভাট পরিচালিত ‘জিসম ২’ ছবির মাধ্যমে বলিউডে যাত্রা শুরু করেন। তাঁর অভিনীত অন্যান্য হিন্দি ছবির মধ্যে রয়েছে ‘রাগিনী এমএমএস ২’, ‘এক পেহেলি লীলা’, ‘কুচ কুচ লোচা হ্যায়’। এ ছাড়া বিভিন্ন ছবির আইটেম গান করেছেন তিনি।

dhoni


ঘটনা রূপকথার মতো মনে হতে পারে। কিন্তু বেঙ্গালুরুর রমেশ বাবুর গল্প অবিশ্বাস্য শোনালেও জলজ্যান্ত বাস্তব। শত শত কোটি টাকার মালিক ভারতের এই নাপিত। সেলুনে রোজ আসেন নিজের বিলাসবহুল রোলস রয়েস গাড়িটি চালিয়ে। ইন্ডিয়াটিভির বিস্তারিত খবরে জানা গেল এই ‘বিস্ময়’ নাপিতের কাহিনী।
তিনি একজন সাধারণ নাপিত হলেও তার প্রাচুর্য্য বা ধনসম্পত্তির পরিমাণ ‘অসাধারণ’ বটে! কেবল ক্ষৌরীই নয়, ৬৭ দামি গাড়ি সমৃদ্ধ একটি রেন্ট-এ-কার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানেরও মালিক তিনি।
একে অবশ্য ভাগ্য বলেই মানেন নাপিত রমেশ। ‘আমার কপালটা খুলে গেছে’, এমনই ভাষ্য তাঁর! তা তো খুলেছেই। আর তাঁর খদ্দের কারা সেটা জানলেও চোখ কপালে উঠতে পারে আপনার। নামিদামি রাজনীতিবিদ, সেনাবাহিনীর উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, এমনকি সালমান খান, আমির খান, ঐশ্বরিয়া রাই বচ্চনের মতো সুপারস্টাররা কেশশয্যার জন্য তাঁর কাছেই যান!
বেশির ভাগ দিনেই কর্মক্ষেত্রে তিন কোটি রুপির বিলাসবহুল ‘রোলস রয়েস গোস্ট’ গাড়িটি নিয়ে আসেন রমেশ। তাঁর কথা, যেমন ভাবে এই গাড়ির যত্ন নেন তিনি-তেমন যত্ন নিয়েই ক্ষৌরীর কাজ করেন তিনি। মজার কথা, এমন বিলাসবহুল গাড়ি শহরে আর মাত্র পাঁচজনেরই রয়েছে। আর রমেশ বাবুর এই গাড়ি রীতিমতো কঠোর পরিশ্রমের উপার্জনে কেনা।
সেলুন ব্যবসা তো দারুণ চলেই, সাথে গাড়ি ভাড়া দেওয়ার ব্যবসাটিও তাঁর বিত্তে জোগান দেয় অঢেল। এ ছাড়া দামি গাড়ি সংগ্রহ করা রমেশের শখ। একইসাথে গাড়িগুলো একজন সংগ্রাহকের মতোই পরিপূর্ণভাবে যত্ন করেন তিনি।
তবে পেছনে তাকালে দেখা যাবে, বিষয়গুলো আগে এত সোজা ছিল না। ১৯৮৯ সালের কথা। রমেশের বাবা মারা গেলেন। রেখে গেলেন একটা ছোট্ট সেলুন, রমেশ তখন কিশোর। রমেশের মা দোকানটি দিনে মাত্র পাঁচ রুপির বিনিময়ে ভাড়া দিলেন আর মানুষের বাড়িতে কাজ নিলেন। এভাবেই সংসার চলত তখন।
পুরনো দিনের কথা বলতে গিয়ে রমেশ আবেগী হয়ে ওঠেন- ‘বাবা যেদিন মারা গেলেন, সেদিনের কথা আমার এখনো মনে পড়ে। তিনি আমাদের, পরিবার আর তাঁর সেলুনটি ছেড়ে চলে গেলেন একবারে।’ কিন্তু এভাবে বেশিদিন চলেনি। ১৯৯৪ সালে তিনি সিদ্ধান্ত নিলেন, আর পড়ালেখা নয়। বাবার ব্যবসার হাল ধরতে হবে। তাঁর স্কুলের পাশেই ছিল সেলুনটি। রমেশের হাতে শিগগিরই সেটি তরুণদের পছন্দের এক সেলুন হেয়ার স্টাইলিং জোন হয়ে ওঠে।
সে সময়ই গাড়ির মালিক হওয়ার স্বপ্ন দেখেন তিনি। তিন বছর পর একটা ‘মারুতি ওমনি’ গাড়ি ঠিকই কিনে ফেলেন। এরপর এটি ভাড়া দিতে শুরু করেন। তাঁর ক্যারিয়ারের মোড় ঘুরে যায় সেখান থেকেই। তাঁর মা যাদের অধীনে কাজ করতেন, তাঁদেরই একজন রমেশকে পরামর্শ দেন গাড়িটি তাঁর নিজের প্রতিষ্ঠানের কাছে ভাড়া দিতে। এভাবেই শুরু। সেলুনের ব্যবসা থেকে লাভের পুরো টাকাই বিনিয়োগ করেন গাড়ির ব্যবসায়। ৯০-এর দশক শেষে তিনি ট্যাক্সি ব্যবসায় সফল হন, তাঁর ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের নাম দেন ‘রমেশ ট্যুরস অ্যান্ড ট্রাভেলস’।
২০০৪ সালে নজর দেন বিলাসবহুল গাড়ির দিকে। এ সময় সরকার পর্যটন খাতে গুরুত্ব দেওয়ায় আরো সুবিধা হয় রমেশের। তখন থেকে রমেশের তুমুল গতিতে সামনে এগিয়ে যাওয়ার গল্প শুরু। প্রথমে একটি ‘মার্সিডিস ই ক্লাস লাক্সারি সেডান’ কেনেন। দাম পড়ে ৩৮ লাখ রুপি। এরপর একে একে আরো তিনটি মার্সিডিজ এবং তিনটি বিএমডব্লিউ। আর তারপর পুরো এক ডজন টয়োটা ইনোভা।
এখন রমেশের সব মিলিয়ে প্রায় ২০০টির মত গাড়ি, ভ্যান এবং মিনি বাস রয়েছে। আমদানি করা বিলাসবহুল গাড়ির মধ্যে রয়েছে রোলস রয়েস সিলভার গোস্ট, মার্সিডিজ সি, মার্সিডিজ ই, মার্সিডিজ এস, বিএমডব্লিউ ৫, বিএমডব্লিউ ৬, বিএমডব্লিউ ৭ সিরিজের গাড়ি। এ ছাড়া মার্সিডিজের আরো কিছু গাড়ি এবং টয়োটার মিনি বাস রয়েছে রমেশের। এগুলো ছাড়া রমেশের রয়েছে একটি ‘সুজুকি ইনট্রুডার’ বাইক, যার দাম ১৬ লাখ রুপি। এটি অবশ্য ভাড়া দেওয়ার জন্য নয়, রমেশের ব্যক্তিগত ব্যবহারের জন্য। ছুটির দিনে এই শখের মোটরযানে সওয়ার হন রমেশ।
তবে এখানেই থেমে থাকবেন না রমেশ, চান আরো! ‘আরো অনেক কিছু করার আছে। যত দিন সাধ্য আছে তত দিন কাজ চালিয়ে যাব’- নাপিতের কাজটা বাদ না দেওয়ার দিকেই ইঙ্গিত করেন রমেশ।বিশাল বিত্তশালী হয়ে উঠলেও পুরনো পেশা বা কাজকে কখনোই ভুলতে চান না রমেশ। এখনো নিজ হাতে সাধারণ খদ্দেরদের চুল কাটান মাত্র ৬৫ রুপিতে।
রমেশের রোলস রয়েস ভাড়া করতে একদিনে গুনতে হয় ৭৫ হাজার রুপি। তাঁর খদ্দেররা হচ্ছেন করপোরেট মহলের বড় বড় সব কর্মকর্তা। আবার চলচ্চিত্র জগতের নামিদামি তারকারাও রমেশের গাড়ি এবং সেলুন সার্ভিসের সাহায্য নেন নিয়মিত।
নিজের কাজ নিয়ে সহজাত রমেশ- ‘আমি যা করেছি, ভালোই করেছি। এটুকুই বলতে পারি’-স্মিত হাসি দেন শেষটায়।